আলোচিত বাংলাদেশ

সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

গণতান্ত্রিক এবং নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৃৎ কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। ১৯৯৯ সালের এই দিনে তিনি মারা যান। এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ

ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে সুফিয়া কামালের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, প্রথিতযশা এই কবির জীবনাদর্শ এবং সাহিত্যকর্ম বৈষম্যহীন-অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করবে।

তিনি ছিলেন গণতন্ত্র, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও নারীমুক্তি আন্দোলনের অগ্রদূত। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেছেন, সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। সুফিয়া কামাল

১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একদিকে ছিলেন আবহমান বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি, অন্যদিকে বাংলার সব আন্দোলন-সংগ্রামে তার ছিল আপসহীন এবং দৃপ্ত পদচারণা। মানবতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে এবং অন্যায়, দুর্নীতি ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার

ছিলেন। তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রীনিবাসের নাম ‘রোকেয়া হল’ রাখা হয়। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার বেতারে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তোলেন তিনি। শিশু সংগঠন ‘কচিকাঁচার মেলা’র প্রতিষ্ঠাতা সুফিয়া কামাল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সৃষ্টিকর্ম ও চিন্তা-চেতনার মধ্য দিয়ে তিনি রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ও

সংস্কৃতিকর্মীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, উইমেনস ফেডারেশন ফর ওয়ার্ল্ড পিস ক্রেস্ট, বেগম রোকেয়া পদক, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ

স্বর্ণপদক ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার তাকে জাতীয় পুরস্কার ‘তঘমা-ই ইমতিয়াজ’দেয়। তবে ১৯৬৯ সালে বাঙালির ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে তা বর্জন করেন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close