শিক্ষাঈন

বিসিএস পুলিশ ক্যাডার ছেড়ে ঢাবির শিক্ষক হলেন রকিব

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জন্ম নিয়েছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন ভালো ছাত্র। অষ্টম শ্রেণিতে পেয়েছেন বৃত্তি, এসএসসি, এইচএসসিতে করেছেন বোর্ড স্ট্যান্ড। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় হয়েছেন অষ্টম। বিশ্ববিদ্যালয়েও

অব্যাহত রেখেছেন ভালো ফলাফলের ধারা। হয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক্ষক। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ বার্মিংহাম থেকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং এন্ড ফিনান্সে করেছেন মাস্টার্স। কসবার খাড়েরা মোহাম্মদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়

থেকে এসএসসিতে কুমিল্লা বোর্ডে সপ্তম হন। উচ্চ মাধ্যমিকে ঢাকা বোর্ড থেকে বাণিজ্য বিভাগে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন তিনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমে স্নাতক ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। একাডেমিক পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়াতে শুরু থেকেই

ছিলেন প্রথম দিকে। মেধাবী ছাত্র মোহাম্মদ রকিব উদ্দিন ভূইয়ার গল্প এটি। ছোটবেলা থেকেই তার বিসিএসের প্রতি ছিল এক অন্যরকম আকর্ষণ। ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষমতা দেখে ভীষণ ভালো লাগতো তার। অনুপ্রাণিত হতেন। স্বপ্ন দেখতেন একদিন তিনিও এমন হবেন। একসময় তিনি তার স্বপ্নকে ছুঁয়েছেন।

হয়েছেন সফল। ২৮তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে মেধা তালিকায় দশম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। স্বপ্ন বাস্তব হওয়ার যে সুখ তা তিনি পেয়েছেন। কিন্তু সেই স্বপ্নকে পেছনে ফেলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পেশাকে বেছে নিয়েছেন। মাত্র ৩১ বছর বয়সে হয়েছেন বিভাগের চেয়ারম্যান। শিক্ষক পিতা

মো: আব্দুল হাই ভূইয়ার অাদর্শে বেড়ে ওঠা রকিব গ্রামের স্কুল থেকে এসে ভর্তি হন ঢাকা কমার্স কলেজে।
সে সময় রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা ছিল তার মনে। ভাবতেন ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ায় সেখানে সব ক্ষেত্রে থাকবে কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলা। আর তাই পাঁচ ভাই ও ১ বোনের সাথে গ্রামীণ খোলা পরিবেশে বেড়ে ওঠা রকিবের ঢাকা

কমার্স কলেজের কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার মাঝে খাপ খাওয়াতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি। স্নাতক চতুর্থ বর্ষে পড়ার সমেই জারি হয় ২৮তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপণ। সে সময় চারপাশে শুরু হয় বিসিএস রব। হল থেকে শুরু করে, রিডিং রুম, লাইব্রেরি সব জায়গাতেই ছিল এক আলোচনা। আর সেই সঙ্গে নিজের ভেতর লালিত স্বপ্নকে ছোঁয়ার আকাঙ্ক্ষা। অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে বিসিএসে অংশ নেন রকিব। স্বপ্নের এ পরীক্ষায় লাখ লাখ পরীক্ষার্থীকে পেছনে

ফেলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে। পুলিশে দশম স্থান অধিকার করেন তিনি। তবে বিসিএসে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের মাস পাঁচেক আগেই নিয়োগ পান দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের লেকচারার পদে। ২০১০ সালে নিয়োগ পাওয়া রকিব বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন এসোসিয়েট প্রফেসর। বিসিএসের ফল প্রকাশের পর থেকেই বেশ সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকেন তিনি। সেসময় কী করবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

এর মাঝেই অনেকটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে থেকেই রিজাইন দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার পদ থেকে। যোগ দেন বাংলাদেশ পুলিশে। সেখানে ওরিয়েন্টেশনের সময়টা বেশ উপভোগ করলেও ভুগছিলেন সিদ্ধান্তহীনতায়। নির্ধারণ করতে পারছিলেন না বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে থাকবেন নাকি শিক্ষকতায় ফিরবেন। এ নিয়ে বেশ কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাকে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে পরিবার থেকেওে সেসময় শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যাবার তাগিদ দেয়া হচ্ছিল। জীবনের সেই সময়টাকে বেশ কঠিন বলে উল্লেখ

করেন রকিব। একসময় ভাবলেন শিক্ষক হিসেবে তিনি হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে মোটিভেট করতে পারবেন। তাদের চিন্তা-ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারবেন। সৎ নিষ্ঠাবান হয়ে গড়ে উঠতে সহায়তা করতে পারবেন।ওই ভাবনা থেকেই তিনি বিসিএস পুলিশ ক্যাডার থেকে রিজাইন দিয়ে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close