অন্যান্য

মুন্সীগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হচ্ছে টিন-কাঠের রেডিমেড ঘর

মুন্সীগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন টিন-কাঠের রেডিমেড ঘর। এতে একদিকে ঘর নির্মাণে আগ্রহীদের সময় ও ব্যয় কমছে। অন্যদিকে এ কাজকে ঘিরে কর্মসংস্থান হচ্ছে বহু মানুষের। স্থানীয়রা এসব ঘরকে

বলেন ‘রেডিমেড ঘর’। আড়াই থেকে পাঁচ লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে একতলা, দেড়তলা ও দুইতলা আকৃতির স্থানান্তরযোগ্য এসব ঘর। একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যময় টিন-কাঠের ঘর। কোনোটি একতলা, কোনোটি দুই তলা, কোনোটি চৌচালা, আবার কোনোটি সাত চালা। এসব ঘর দেখে নয়ন

জুড়াবে যে কারো। তবে এগুলো কোনো ব্যক্তিগত বাড়ি নয়। এসব ঘর তৈরি করা হয়েছে বিক্রির জন্য। অর্থাৎ চাইলেই এখান থেকে আস্তো একটি নতুন রেডিমেড ঘর কিনে নিতে পারবেন যেকেউ
মিস্ত্রিদের পাকা হাতে তৈরি টিন-কাঠের এসব কাঁচা ঘর মুন্সীগঞ্জের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। এ জেলার অধিকাংশ বাড়িতেই

দেখা মেলে এমন ধরনের ঘরের। স্থানীয়দের কাছে এসব ঘর ঐতিহ্যও বটে। বিশেষ করে নদীভাঙন-কবলিত অঞ্চল বলে এখানে টিন-কাঠের ঘরের কদর বেশি। কারণ ঘরগুলো স্থানান্তরযোগ্য হিসেবে তৈরি করায় ভাঙন দেখা দিলে সহজেই ঘর সরিয়ে নেয়া সম্ভব। এছাড়া প্রয়োজনে নগদ টাকায় এসব ঘর বিক্রি করারও

রয়েছে সুযোগ। নাইজেরিয়ান লোহাসহ বিভিন্ন কাঠ দিয়ে একেকটি ঘরের আকৃতি ভেদে তৈরি করতে সময় লাগে সাত থেকে ১৫ দিন। নকশা কারুকাজ বেশি হলে কোনোটির সময় লাগে আবার এক মাসও। পূর্বের গতানুগতিক পদ্ধতির সঙ্গে বর্তমান আধুনিক মেশিন ও সরঞ্জাম ব্যবহার করায় ঘর নির্মাণের সময় কমে আসছে।

আকৃতি অনুযায়ী ২০০ থেকে ৪০০ কেবি কাঠ প্রয়োজন হয় একেকটি ঘর তৈরিতে। সঙ্গে টিন ও প্লেন সিট দিয়ে তৈরি করা হয় বিভিন্ন নকশা। এগুলো ঘরের সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে দেয় বহু গুণ।
কাঠ ভেদে এসব ঘর ৩০ থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত টেকশই। রেডিমেইড এসব ঘর কিনতে পাওয়া যাওয়ায় আগের মতো

বাড়িতে মিস্ত্রি এনে তৈরির ঝামেলা এড়ানো যায়। আর নির্মাণ ব্যয়ও সাশ্রয়ী হচ্ছে। ইচ্ছে অনুযায়ী বাছাই ও নকশা-রং পাল্টানো সুযোগও থাকছে তাদের। জেলার সদর, টঙ্গীবাড়ী, লৌহজংসহ ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘড়ে উঠেছে রেডিমেড এসব ঘর বিক্রির বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। জনপ্রিয় এসব ঘর তৈরির

কাজকে ঘিরে কর্মস্থান হচ্ছে বহু মানুষের। আর এই পেশায় যুক্ত হয়ে অনেক যুবকই ঘোচাচ্ছে বেকারত্ব, ধরছে পরিবারের হাল।
ঘর ব্যবসায়ীরা জানান শুধু স্থানীয়রা নয়, আশপাশে বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ এসব ঘর কিনে নিয়ে যান। বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হওয়া ঘরগুলোর কাঠ, টিন ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক

পণ্য পাইকারি কেনায় নির্মাণ ব্যয় কমছে। তবে বাড়িতে মিস্ত্রি নিয়ে একই ধরনের ঘর তৈরি করলে খরচ বাড়বে বহু গুণে। আকৃতি আর নকশা অনুযায়ী ঘর প্রতি দাম পরে আড়াই লাখ থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত। ঢাকাটাইমস

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close