আলোচিত বাংলাদেশ

বগুড়ায় ডিজেল এবং গ্যাসে চালিত বাসের ভাড়া সমান 

শুধুমাত্র ডিজেল চালিত গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও বগুড়ায় গ্যাসে চালিত বাস থেকেও নতুন নিয়মে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। গন্তব্যে যেতেই হবে তাই উপায় না পেয়ে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়াতেই

বাসের সিটে গিয়ে বসছেন। বাসের কন্ডাক্টর এবং হেলপাররা বলছেন তাদের যে ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তারা সে নির্দেশনা অনুসরণ করছে মাত্র। বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপ বলছে, জেলার আভ্যন্তরীণ রুটে বর্তমানে ২০ শতাংশ গাড়ি সিএনজিতে

চালিত। দূরপাল্লার সব বাসই ডিজেলে চলে। বাস ভাড়া বাড়ানোয় ডিজেল এবং গ্যাসে চালিত পরিবহনে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এর সমাধান করা হবে। এদিকে জেলায় কি পরিমাণ গ্যাসে চালিত গাড়ি রয়েছে এবং সেগুলো কোন কোন রুটে চলাচল করে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি বগুড়া

বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, গ্যাসে চালিত বাসগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও তদারকি নেই বিআরটিএর। গত তিনদিনেও তাদের কোন কর্মকাণ্ড বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়নি। যে কারণে গ্যাসে চালিত গাড়ির যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। একই সঙ্গে যাত্রী ও বাসের কন্ডাক্টরদের মধ্যে প্রায়ই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটছে।

বুধবার (১০ নভেম্বর) বগুড়া শহরের সাতমাথা, চারমাথা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সরকার ঘোষিত গণপরিবহনে নতুন ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৮০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। সে অনুযায়ী বগুড়া থেকে ঢাকাগামী নন এসি বাসে সিট প্রতি ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ১০০ টাকা। পূর্বে এ রুটে ভাড়া ছিলো ৩৫০ টাকা সেটি এখন ৪৫০

টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে বগুড়া থেকে রাজশাহীর ভাড়া ১৫২ থেকে বাড়িয়ে ১৯৩ টাকা। বগুড়া থেকে নাটোরে ১০০টা থেকে ১২৬ টাকা, বগুড়া থেকে নওগাঁ ৬৫ টাকার জায়গায় ৮৩ টাকা, বগুড়া থেকে জয়পুরহাট ৮৩ টাকা থেকে ১০৪ টাকা, বগুড়া থেকে শেরপুর ২৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকা করা হয়েছে। বাসস্ট্যান্ডগুলোর চেইনমাস্টাররা বলছেন, ভাড়া সরকারি নিয়মে বাড়লেও তারা যাত্রীদের কাছ থেকে ৫-১০ টাকা কম রাখছে। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বগুড়ায় গ্যাসে চালিত ৩৫ শতাংশের বেশি গাড়ি

রয়েছে। এই গাড়িগুলো বগুড়া থেকে নওগাঁ, নাটোর, শেরপুর ও জয়পুরহাটে চলাচল করছে। গ্যাসে চালিত এই গাড়িগুলোতেও যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
বগুড়া থেকে শেরপুরগামী বাসের যাত্রী সুমন কবির বলেন, ‘যে বাসে যাচ্ছি সেটি গ্যাসে চালিত বাস। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বগুড়া থেকে শেরপুরের ভাড়া ২৫ টাকা। কিন্তু যতগুলো বাস আছে সবাই ৩৫ টাকা করে নিচ্ছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন,  ‘গ্যাস চালিত গাড়ির ভাড়া বেশি না নেওয়ার কথা বলতে গেলে কন্ডাক্টররা গাড়িতে উঠতে বাধা

দেয়। তাই বাধ্য হয়েই ৩৫ টাকাতেই যেতে হচ্ছে।’ বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের শেরপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা বলেন, ‘করতোয়া গেটলকের ৬৫ টির মধ্যে ২৭টি গাড়ি ডিজেলে চলে। বাকিগুলো গ্যাসে চলে। আমাদের ভাড়া আগে থেকেই ৩২ টাকা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে ২৫ টাকা রাখা হতো। এবার বিআরটিএ’র সঙ্গে আলোচনা করে জেলা থেকে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।’ বগুড়া জেলা

মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাসভাড়ার সরকারি রেট বিআরটিএ ঢাকা থেকে পাঠানো হয়েছে। সরকারি রেট অনুযায়ী বাসভাড়া ঢাকা টু বগুড়া ৪৬৬ টাকা হয়। সেটাকে আমরা ৪৫০ টাকা করেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘দূরপাল্লার কোন সিএনজি গাড়ি নেই আমাদের। বগুড়ার আভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে সিএনজি চালিত বাস অনেক ছিলো। কিন্তু গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর অনেকেই সিএনজি থেকে আবারও ডিজেলে চলে এসেছে। আমার জানামতে জেলার আভ্যন্তরীণ রুটে ২০ শতাংশ বাস সিএনজি চালিত। আমরা বাছাই করছি কোন

কোন রুটে সিএনজি চালিত বাস বেশি আছে। সিএনজিতে ভাড়া বেশি নেওয়ার কথা না। এরপরও ঝামেলা হচ্ছে। যতটুকু ঝামেলা আছে এগুলো আমরা ২/৩ দিনের মধ্যেই সমাধান করে ফেলবো।’
বগুড়া বিআরটিএর সহকারি পরিচালক মইনুল হাসান বলেন, ‘প্রতিটি গাড়ির পেছনে তো আমাদের কর্মকর্তা নিয়োগ করা সম্ভব না। মোবাইল কোর্ট নিয়ে গেলে সাধারণত ১ থেকে দেড় ঘণ্টার মতো থাকা হয়। এই সময়ের মধ্যে সামনে যে বাসগুলো আসে

সেগুলোর যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ রুটে মোবাইল কোর্ট নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। আমাদের পক্ষ থেকে মোটর মালিক গ্রুপ এবং বাস মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদের ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close