সারা বাংলাদেশ

পা ফেললেই মৃত্যু ঝুঁকি, এভাবেই চলছে দশ গ্রামবাসী!

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে গ্রামবাসীর অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি হচ্ছে অর্ধকোটি টাকার সেতু! ইতিমধ্যে ২০লাখ টাকা খরচ করে সেতুটির ৪০ভাগ কাজ শেষ করে আটকে গেছেন তারা। তাই সেতুর পিলারের

উপরে কাঠ ও বাঁশের মাচা করে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে অন্ততপক্ষে দশ গ্রামের মানুষের। জেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের কাছে কেউ আসেনি আর জেলা প্রশাসক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বলছেন বিষয়টি দুঃখজনক। জানা গেছে, মির্জাপুরের ১০নং

গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা গ্রামটি লৌহজং নদী দ্বারা বিভক্ত। গ্রামের দক্ষিণ পাড়ের মানুষ নদী পার হয়ে উপজেলা সদর, দেওহাটা বাজার ও স্কুল-কলেজে এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল যাতায়াত করতে তাদের খেয়া নৌকায় পারাপার হতে হয়। এছাড়াও অপর পাড়ের মানুষ নদী পার হয়ে তাঁদের আবাদি জমির ফসল

আনা-নেওয়া করেন । স্বাধীনতার ৫০বছর পার হলেও গ্রামবাসীর প্রয়োজনীয় সেতুটির দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া দেয়নি। তাই দুইবছর আগে নিজেরাই চাঁদা তুলে ও স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করেন। যার ৪০ভাগ শেষ ইতিমধ্যে সেতুটির প্রায় ৪০ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নদীর তলদেশের ১০ফুট নিচ থেকে ঢালাই করে ৩২ফুট উচ্চতার ৮টি

পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। এতে প্রায় ২০লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ সেতুর দৈর্ঘ্য ১৬০ফুট ও প্রস্থ হবে ১১ফুট। যা নির্মিত হলে অন্ততপক্ষে দশগ্রামের লাখো মানুষের ভোগান্তি দূর হবে। মীর দেওহাটা গ্রামের খলিলুর রহমান জানান, সেই ছোট কাল থেকে নৌকায় পার হয়ে থাকি এই নদীর এপার উপার, বেশ কিছু দিন আগে এলাকাবাসী সবার সাথে কথা বলে আমরা একটি ব্রিজ

নির্মাণের উদ্যোগ নেই, পরে এলাকাবাসী সবাই মিলে কিছু টাকা তুলে কাজ শুরু করি। এখন প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মতো কাজ করা হয়েছে তবে যে কাজ হয়েছে তা এখন একটি মৃত্যু ফাঁদে পরিনত হয়েছে। যখন পারাপার হতে হয় তখন মনে হয় এই বুঝি পরে গেলাম! ফারুক মিয়া নামের ওই এলাকার একজন জানান, নিজেদের টাকা দিয়ে এ পর্যন্ত করেছি এখন সরকার যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে বাকী কাজ শেষ হতে সময় লাগবে আরো

১০বছর। তবে ভোগান্তির শেষ হবেনা যতক্ষণ এ ব্রীজটির কাজ শেষ না হবে। টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, ওই এলাকার আশেপাশে আমাদের কোন রাস্তা নাই তাই জানি না বিষয়টি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখে বিস্তারিত বলতে পারবো। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি জানান, এতো দিনেও সেতু না হওয়া দুঃখজনক। পরিদর্শন করে সহযোগীতা করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close