শিক্ষাঈন

১০ বিদ্যালয়ে থই থই করছে পানি

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি  ইউনিয়নেসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে ইউনিয়নের খরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার ১০টি স্কুল পানিতে তলিয়ে আছে। বাঁশের চটা ও গোলপাতা

দিয়ে বানানো অস্থায়ী খুপড়ি ঘরে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। অপরিকল্পিত ঘের করে মাছ চাষের ফলে এমন অবস্থা বলে অনেকেই মনে করেছেন। তালা উপজেলার  শালিখা গুচ্ছ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাঠবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাবাধাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সমনডাঙ্গা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জলাবদ্ধতার শিকার। এসব স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। খরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, মুল ভবনসহ শৌচাগার ও টিউবওয়েল পানিতে নিমজ্জিত। রাস্তার পাশেই একটি ছোট জায়গা বাঁশের চটা দিয়ে ঘিরে ও গোলাপাতার ছাউনির চালের মধ্যে

শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলছে পাঠদান। একই ঘরের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ অপর চারজন শিক্ষক অবস্থান করছেন। খুপড়ি ঘরের সঙ্গে বাধা বাঁশের খুটিতে উড়ছে জাতীয় পতাকা।  চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী দীপু মণ্ডল, জুবাইদা সুলতানা যুঁথি ও রোজ মণ্ডল দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, পানিতে মূল ভবন জলাবদ্ধ। তাদের বাথরুম ও টিউবওয়েল পানির নিচে। করোনার সময়ে দীর্ঘদিন

বিদ্যালয় বন্ধ থাকার পর গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে তাদের ক্লাস চলছে বিদ্যালয়ের মূলভবনের সামনে রাস্তার পাশে। জায়গার স্বল্পতার কারণে শিক্ষক শিক্ষার্থী মিলে মিশে একঘরে থাকতে হচ্ছে। কপোতাক্ষ খনন হয়েছে ঠিকই তবে এবছর বেশি বৃষ্টি হওয়ায় ও অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের করার কারণে বিদ্যালয়ের  ভবনসহ এলাকার বেশ কিছু বাড়িও রয়েছে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন তাদের বাথরুম ব্যবহারে ও পানির জন্য দূরবর্তী বাড়িতে

যেতে হচ্ছে। এ সমস্যা আর কত মাস তাদের সইতে হবে তা কেউ বলতে পারেন না। খরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ জাকির হোসেন দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, তার বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে শুধু এবার নয়। গতবছরও এ অবস্থা  সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতি বছর চার থেকে সাড়ে চার মাস তাদের এ বেহাল পরিস্থিতিতে শিক্ষা

কার্যক্রম চালাতে হয়। তিনি আরও বলেন, ক্লাস চলাকালে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হলে দূরবর্তী বাড়িতে যেতে হয় শিক্ষকদের। সমস্যায় পড়ে শিক্ষার্থীরাও। এ সমস্যা আর কতো মাস সইতে হবে তা জানা নেই কারও। একইভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিকাশ চন্দ্র রায় জানান, অপরিকল্পিত মাছের ঘের ও ভবানীপুর খালের পাশে বাধ দেওয়ায় বারাত বিলের পানি সরতে

পারছে না। ঘেরের কারণে বিদ্যালয়ের সামনে থেকে মোহনা বাজার যাওয়ার রাস্তাটিও সরু হয়ে গেছে। হেঁটে যাওয়াটাই দুষ্কর। প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগ না নিলে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সুযোগ নেই। তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মুস্তাফিজুর রহমান দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, তালা উপজেলার  শালিখা গুচ্ছ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাঠবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাবাধাল সরকারি

প্রাথমিক বিদ্যালয়, সমনডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার কোন পরিবেশ নেই। তবুও স্ব স্ব বিদ্যালয় কর্তপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থপনায় স্কুল খোলা রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি জানান,অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মত জলাবদ্ধতার কারণেই খরাইলসহ কয়েকটি স্কুলে বিকল্প ঘর নির্মাণ করে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত কিছুটা কষ্ট পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close