শিক্ষাঈন

‘চাকরির পরীক্ষা দিতেই শেষ সংসার চালানোর খরচ’

গত চার সপ্তাহে ঢাকায় এসে সাতটি চাকরির পরীক্ষা দিয়েছেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা হিমেল রাজা। অক্টোবর ও নভেম্বরের প্রতি শুক্রবার পরীক্ষা দিতে তিনি ঢাকায় এসেছেন। খরচ করেছেন ১০ হাজার টাকার বেশি।

নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের এই সদস্য বলছেন, পরীক্ষার আবেদন ও ঢাকায় এসে পরীক্ষা দিতে খরচ হয়ে যাচ্ছে অনেক টাকা। সরকারি পরীক্ষাগুলো ভর্তি পরীক্ষার মতো গুচ্ছভুক্ত করে প্রার্থীদের নিকটবর্তী কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা রাখার আর্জি তার। গত ১২

সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খোলার পর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়। শুক্র ও শনিবারগুলোতে পড়তে থাকে ডজনের বেশি নিয়োগ পরীক্ষা। পরীক্ষার বেশিরভাগ কেন্দ্র ঢাকায় হওয়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে চাকরিপ্রত্যাশীরা রাজধানীতে আসছেন পরীক্ষা দিতে। আবার

একদিনে একাধিক পরীক্ষা হওয়ায় আবেদন ফি দিয়েও পরীক্ষা দিতে পারেননি অনেক প্রার্থী। শুক্রবার (৫ নভেম্বর) জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে চলমান অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের পরীক্ষা ছাড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৬টি নিয়োগ পরীক্ষা।
গণপরিবহন না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রাস্তায় বের হওয়া

যাত্রীরা। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে পরীক্ষার জন্য প্রার্থীরা রাজধানীর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটছেন। চট্টগ্রাম থেকে আসা চাকরিপ্রত্যাশী হিমেল রাজা বলেন, শনিবার আমার তিনটা পরীক্ষা আছে। কিন্তু একটাও দিতে পারবো না। ঢাকায় আসার জন্য যে টাকা নিয়ে আসছিলাম, সব শেষ হয়ে গেছে। ঢাকায় আপ-ডাউন ও পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়া-আসায় হাজার তিনেক টাকা খরচ হচ্ছে।

তিনি বলেন, ধর্মঘটের মধ্যে পরীক্ষাগুলো ক্যান্সেল (স্থগিত) করতে পারতো তারা। অথচ তারা একটাও ক্যান্সেল করেনি। সবখানেই বাড়তি খরচ দিতে হচ্ছে আমাদের। পরীক্ষার পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রার্থীর বাসার আশপাশে গুচ্ছভর্তির মতো কেন্দ্রগুলো করতে পারতো তাহলে আমাদের মতো বেকার মানুষের অনেক উপকার হতো। এখন পরীক্ষার পেছনে যে টাকা খরচ হচ্ছে, সেটা তো আসলে

সংসারের খরচ। মানিকগঞ্জের শিবালয় থেকে আসা চাকরিপ্রত্যাশী মায়নুল বলেন, দুই বছর তো নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ ছিল। এখন পরীক্ষার চাপ বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। তবে এটাকে একটা সমন্বয়ের মধ্যে নিয়ে আসা সময়ের দাবি। পরীক্ষার জন্য প্রতি সপ্তাহে শহরমুখী হওয়া সুস্থ কোনো কালচার না। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার জন্য যদি একটা পরিবারের খরচের অর্ধেক টাকা চলে যায়, তাহলে সেই পরিবার চলবে কি করে? সরকারের উচিত—চাকরিপ্রত্যাশীদের দুর্ভোগ লাঘব করা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ

সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা শুক্রবার পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিজ উদ্যোগে নিয়োগ পরীক্ষা নিচ্ছে শুক্র ও শনিবার। তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এজন্য একদিনে অনেক পরীক্ষা পড়ছে।

পরীক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। ভোগান্তি লাঘবে নিয়োগ সেল করা যেতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সেলের দায়িত্ব হবে- কার, কবে পরীক্ষা এগুলো জেনে পরীক্ষার দিন-তারিখ ঠিক করা। এতে করে একই দিনে একাধিক পরীক্ষা হওয়ার সুযোগ কমে যাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close