আন্তর্জাতিক

গেট তৈরিতে ব্যয় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, জড়িতরা ঘুরছেন বুক ফুলিয়ে

সিভিল এভিয়েশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশ’লী কার্যালয়ের মূল গেটের পাশেই রয়ে’ছে একটি ওয়েটিং রু’ম। ২০১৭ সালে’ এই গেট ও ওয়েটিং রুম নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৭০ লাখ টা’কা। গেটে শুধু

নামফলক বসানোর পেছনেই ব্যয় ধরা হয় ১২ লাখ ১৩ হা’জার টাকারও বেশি। এতে নামফ’লকের প্রতিটি হরফের পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি লে’খা সম্বলিত দুপাশের দুটি লো’গোর দাম প্রায় ৭৪ হাজা’র

টাকা। আর ৪ অংশের এই গেটের মাপ সর্বোচ্চ ২২ ফিট হলেও ৬০ ফিট দেখিয়ে মূল্য পরি’শোধ করা হয়েছে সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি। এ ছাড়া দোতলা ভবনে’র এসএস সিঁড়ির রেলিং লাগি’য়ে বিল ধরা হয়েছে ৮ লাখ ২০ হাজা’র টাকা। অথচ

বাজার’দর হবে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা। এসএস পাইপ ও বল লাগানো’র খরচ সর্বোচ্চ ৫ লাখ হলেও বি’ল নেয়া হয়েছে ২৮ লাখ টাকা। শুধু তাই নয় কার্যালয়ের পূর্বে’র বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে নতুন করে ক’রা হয়েছে বিল নেয়ার উদ্দেশ্যে। সিভিল

এভিয়েশনের কার্যালয়ে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে পরিচ্ছন্নতা কর্মী’র কাজ করে’ন জগন্নাথ চন্দ্র দাস। তাই এখান’কার অনেক কিছুই তার জানা। তার কাছে বাগানের বয়স জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এই বাগান বহু আগে ক’রা হয়েছে। আমি এখানে ২০ বছর ধরে চাকরি করি। আমি চাকরি শুরু করার আগেই

এখানে বাগান ছিল।’ এমন দুর্নীতির প্রমাণ উঠে আ’সে বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণাল’য়ের উচ্চ পর্যায়ের তদ’ন্ত প্রতিবেদনেও। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর সেই প্রতিবেদনে উঠে আসে সিভি’ল এভি’য়েশনের সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌ’শলী কামরুজ্জামান, নিজা’ম আল হাসিব, আব্দুল্লাহ আল মামুন,

সহকারী প্রকৌশলী নাসিম আল ইস’লাম, জহিরুল ইসলা’ম, নির্বাহী প্রকৌশলী শরি’ফুল ইসলাম, শহীদু’জ্জামান, এইচ এম নুরুদ্দীন এবং তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী সু’ধেন্দু বিকাশ গোস্বা’মীর নাম। এ ঘটনায় তৎকালীন প্রধান প্রকৌশ’লীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

প্রতিবে’দনে দায়ী প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। অভিযুক্ত ঠিকা’দারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স তান’ভীর ট্রেডার্সের মালিক নাজমূল আলম খুর’রমের সব কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশও দেয়া হয়।
কিন্তু এতদিনেও কোনো ব্যব’স্থা নেয়া হয়’নি। উল্টো দুর্নীতি ঢাকতে ও মন্ত্রণালয়ের তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নতু’ন করে এই

গেটে কাজ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে একটি প্রকল্পে কাজ করেন রনি নামের একজন ব্যক্তি। দুর্নীতি ঢা’কতে মূল ফটকে নতু’ন করে এসএস পাইপে বল লাগানো তিনিও দেখেছেন। শুধু এই গেটেই নয়, ওয়েটিং রুমের ভেতরেও নতুন করে কাজ করা হয়েছে। দোতলায় উঠতেই দেখা গেলো বসার জায়গার উপরে বাহারি ডিজাইনের এসএস পাইপ ও বল লাগানো। এখানেও নাকি কিছু বল লাগানো হয়েছে নতুন করে। তথ্য অনুযায়ী, গেট

কেলেঙ্কারির অন্যতম অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম ২৮ সেপ্টেম্বর মধ্য রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরে চোরাই স্বর্ণসহ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)’র হাতে ধরা পড়েন। তবে এ বিষয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)’র গণমাধ্যম শাখায় যোগা’যোগ করা হলেও আনুষ্ঠা’নিকভাবে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। চোরাই স্বর্ণসহ জহিরুল ইসলাম ধরা

পড়া’র পর, নিয়ম অনুযায়ী থানা পুলি’শের কাছে তুলে দেওয়ার কথা। কিন্তু জহিরুলের বেলায় ঘটেছে উল্টো। বরং আইন তারা নিজের গতিতে এগোয়নি। মুচ’লেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর দিব্যি ঘুরে বেড়া’চ্ছেন জহিরুল। সার্বিক বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত সচিব ও এভিয়েশন বিভাগের সদস্য মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গ কথা বললেও তিনি ভিন্ন আঙ্গিকে কথা বলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close