মানবাতা ও সমাজ

৪০ বছর পর বাবা-মায়ের কাছে ফিরলেন মিনতি

৬ বছর বয়সে ময়মনসিংহে বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে যান মিনতি। এরপর মসলেম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিজ বাড়িতে নিয়ে তাকে লালন-পালন করেন। চার দশক পর বাবা-মাকে ফিরে পেয়েছেন তিনি। এখন মিনতির

বয়স ৪৬, চার কন্যার মা। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। মিনতি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের রানিগ্রামের বাছের আলীর মেয়ে। রোববার রাতে পরিবারের সঙ্গে আপন ঠিকানায় ফিরে আসেন তিনি পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার

ভাইবোনের মধ্যে মিনতি সবার ছোট। ছয় বছর বয়সে চাচাতো বোন ও দুলাভাইয়ের সঙ্গে ময়মনসিংহে বেড়াতে যান। ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ স্টেশনে হারিয়ে যান মিনতি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে বোন ও দুলাভাই হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। মিনতি বলেন, আমাকে কাঁদতে দেখে মসলেম উদ্দিন নামে

এক ব্যক্তি তার বাসায় নিয়ে যান। তার বাড়িতেই মেয়ের মতো বড় হতে থাকি। প্রাপ্তবয়স্ক হলে গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার ব্যবসায়ী বুরহান উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে হয়।
মিনতি বর্তমানে চার কন্যাসন্তানের মা। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। বড় মেয়ে-জামাই ঢাকায় থাকে। তাদের সঙ্গে পরিচয় হয়

গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের মকিমপুরের শাহরুখ নয়নের। মিনতির মেয়ে-জামাইয়ের তথ্য অনুযায়ী- নয়নের প্রচেষ্টায় হারানো পরিবারকে ফিরে পেয়েছেন তিনি শাহরুখ নয়ন জুয়ানান, একসঙ্গে পড়াশোনা করার সুবাদে মিনতির মেয়ে-জামাইয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তার কাছ থেকেই শোনেন মিনতির জীবনের গল্প। পরে মিনতির সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন রাজশাহী

জেলার কাছিকাটা গ্রামে তার বাপ-দাদার বাড়ি। সেই সূত্র ধরে নয়ন ওই এলাকায় কয়েকবার যান এবং লিফলেট বিতরণ করেন। এরপর ওই এলাকা থেকে ফোন আসা শুরু হয়। মিনতি মোবাইলে

তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ছোটবেলার কিছু চিহ্ন ও স্মৃতির কথা জানান। সেই সূত্র ধরেই আপন ঠিকানার সন্ধান পান তিনি। দীর্ঘ ৪০ বছর পর রোববার রাত ৮টার দিকে নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যান মিনতি। ডেইলি বাংলাদেশ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close