আলোচিত বাংলাদেশ

কুমিল্লার মণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখায় প্রধান সন্দে’হভাজন শনাক্ত

পুলিশ সুপার আইনিউজকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যে ব্যক্তি কোরআন রেখেছে তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে পুলিশ। এদিকে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো এবং

নিউজবাংলা২৪ তাদের প্রতিবেদনে পুলিশের বরাতে জানিয়েছে, পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন ইকবাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখায় প্রধান সন্দে’হভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে ইকবাল হোসেন নামের এক যুবককে। ইকবালের সহযোগী

হিসেবে অন্তত চারজন এরই মধ্যে গ্রে”প্ত ার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, ইকবাল গ্রে”প্ত ার হলেই এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে

সহিং’সতা। ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আ’ক্রা’ন্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিং’সতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জে’লায়। রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে ৬টার মধ্যে কোনো একসময়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি কোরআন শরিফটি রেখে যান মণ্ডপে। এ সময় হনুমানের হাতের

গদাটি সরিয়ে নেন তিনি। গদা হাতে তার চলে যাওয়ার দৃশ্য ধ’রা পড়েছে ওই এলাকারই কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায়। এতে দেখা যায়, কোরআন শরিফটি রাখার পর হনুমানের মূর্তির গদা কাঁধে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন প্রধান অ’ভিযুক্ত ওই ব্যক্তি। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সময়টি রাত তখন সোয়া ৩টার মতো।

ত’দন্তসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তারা জানিয়েছেন, মণ্ডপে যিনি ভোররাতের দিকে কোরআন শরিফ রেখেছেন, তাকেও চিহ্নিত করা গেছে। মণ্ডপটিতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকলেও আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরায় ধ’রা পড়েছে মূল অ’ভিযুক্তের ছবি। যেকোনো সময়ে তাকে গ্রে”প্ত ারের বি’ষয়ে আশাবাদী

পুলিশ কর্মক’র্তারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও ম’ঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কুমিল্লায় সহিং’সতার মূল অ’ভিযুক্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা যে ঘটিয়েছে সে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে, স্থান পরিবর্তন করছে।

আমর’া তাকে ধরব। কেন এই কাজ করেছে, তার জবাব দিতে হবে। আপনাদের জানাব।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, মণ্ডপে কোরআন শরিফ পাওয়ার সময় সেখানে পুরোহিত উপস্থিত ছিলেন। তারা কোরআন সরাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে এ অ’ভিযোগ নাকচ করে শিমুল গোস্বামী বলেন, তারা হা’ঙ্গামা’র খবর পেয়ে সেদিন সকালে

মণ্ডপেই যাননি। এলাকাবাসী ও মণ্ডপসংশ্লিষ্টদের স’ঙ্গে কথা বলেও এর সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে দেশের অন্যতম একটি অনলাইন নিউজপোর্টাল নিউজবাংলা।
নানুয়া দিঘির পাড়ে এই পূজা উদযাপন হয় দর্পণ সং’ঘের ব্যানারে। পূজা কমিটির সভাপতি সুবোধ রায় কর্মকার জানান, ম’ঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় তিনি নিজের ব্যবসা’প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মণ্ডপে আসেন। কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করে বন্ধুদের

স’ঙ্গে আড্ডা দিতে নগরীর কান্দিরপাড়ে যান। রাত সাড়ে ১২টায় আড্ডা শেষে বাসায় ফেরার পথে সুবোধ আবার মণ্ডপের পাশে দাঁড়ান। তখন ভক্ত-দর্শনার্থী বেশ কম ছিল। এরপর বাসায় এসে রাতের খাবার খেয়ে ঘু’মিয়ে যান। সকালে মানুষজনের চিৎকার শুনে উঠে গিয়ে দেখেন মণ্ডপজুড়ে মানুষের ভিড়। পূজার

ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন দিঘির পাড়ের বাসিন্দা তরুণ কান্তি মোদক। স্থানীয়রা তাকে মিথুন নামে চেনেন। মিথুন জানান, রাত আড়াইটা পর্যন্ত তিনি মণ্ডপে ছিলেন। তখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। এরপর তিনি নৈশপ্রহরী শাহিনের কাছে মণ্ডপের নিরাপ’ত্তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বাসায় ফেরেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close