শিক্ষাঈন

জামিন পেলেন না ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া সেই শিক্ষক

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ছয় ছাত্রের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় হওয়া মামলায় মাদরাসার শিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরের (৪০) জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তারেক

আজিজ তাঁর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেনের মা শাহেদা বেগম বাদী হয়ে রায়পুর থানায় মঞ্জুরুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গতকাল শনিবার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার রাত

নয়টার দিকে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কাজির দিঘিরপাড় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ মঞ্জুরুল কবির হামছাদী কাজির দিঘিরপাড় আলিম মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ও বামনী ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের দায়িত্বে রয়েছেন। লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বলেন,

রোববার সকালে শিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করা হয়। এ সময় আদালত প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে দুপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনেছেন। পরে জামিন আবেদন খারিজ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত শুক্রবার মাদরাসার দশম শ্রেণির ছয় ছাত্রের চুল কেটে

দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ছাত্রদের পাঠদান বন্ধ করে বারান্দায় ডেকে এনে চুল কেটে দিয়েছেন ওই শিক্ষক।
তবে গ্রেফতারের আগে মাদরাসাছাত্রদের চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির বলেন, দশম শ্রেণির

ওই ছাত্ররা ক্লাসের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে আসছে। এ জন্য তাদের অল্প করে কিছু চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। বাকি চুল তারা সেলুনে কেটেছে। তবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো অসন্তোষ নেই।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, গত বুধবার তাদের ইংরেজি ক্লাস চলছিল। এ সময় হঠাৎ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির কাঁচি দিয়ে

তাদের ছয়জনের মাথার চুল কেটে দেন। ঘটনার পর তারা ক্লাস না করে মাদরাসা থেকে বেরিয়ে যায়। তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সহপাঠীদের সামনে লজ্জিত হয়। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, গুরুত্বসহকারে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। গতকালও মামলাসংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। কোনো শিক্ষক ছাত্রদের চুল কাটতে পারেন না। 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close