খেলাধুলা

বাবার সাথে মাঠে আজ প্র্যাক্টিসে দেখা গেল জুনিয়র তামিমকে

তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের ক্রিকেটে বহুল প্রচলিত ও বিখ্যাত একটি নাম। ২০০৭ সালে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত হওয়া তামিম ইকবালের আছে বাংলাদেশের হয়ে একাধিক অর্জন। তিনি

একইসাথে বাংলাদেশের হয়ে একদিনের ম্যাচে প্রথম ৫০টি অর্ধশতকের মালিক, সর্বাধিক রান সংগ্রাহক, এবং সাকিব আল হাসানের পর বাংলাদেশের মাত্রই ২য় ইংলিশ কাউন্টি খেলা ক্রিকেটার। খুব অল্প সময়েই নিজেকে কিংবদন্তীর কাতারে নিয়ে

যাওয়া এই ক্রিকেটারের শুরুটাও হয়েছিলো ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট পরিবারেই তামিম ইকবাল-এর বাবা ইকবাল খান ছিলেন দেশের একজন প্রথম সারির ক্রিকেট আয়োজক, যিনি ছোটো থেকেই তাঁর সন্তানদের ক্রিকেটার হিসেবে তৈরির স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে গেছেন। ফলশ্রুতিতে তাঁর বড় ছেলে নাফিস ইকবাল ২০০২ সালের

অনুর্ধ-১৯ ক্রিকেট থেকে জাতীয় দলে ২০০৪ সালেই আবির্ভূত হয়েছিলেন। ইকবালের খানের ছোটোভাই আকরাম খান নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয় দলকে, এবং দেশের একজন কিংবদন্তী ক্রিকেটার। তবে তামিম ছাপিয়ে গেছেন এদের সবাইকেই।
১৯৮৯ সালে ২০শে মার্চ জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটার বর্তমানে একদিনের ম্যাচে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলকে।

শৈশব থেকেই ক্রিকেট আবহে বড় হওয়া এই ক্রিকেটার বংশ পরম্পরায় ফুল ফুটিয়ে যাচ্ছেন দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। সেই ধারাবাহিকতাতেই আজ মিরপুর শের-এ-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট মাঠে দেখা মিললো তামিম ইকবাল খান-এর ছেলে আরহাম ইকবাল-এর। বাবার সাথে মাঠে আজ প্র্যাক্টিসে এসেছিলেন ছোট্টো আরহাম। বাবার সাথে নেটে হাত-ও ঘুরিয়েছেন তামিম জুনিয়র।

চট্টগ্রামে খান পরিবার একটি স্বনামধন্য ক্রিকেট পরিবার, এবং ছোটো থেকেই বাবা ইকবাল খানের অনুশাসন ও ক্রিকেট আবহে বড় হওয়া তামিম-এর জন্য সময়ের পরিক্রমায় জাতীয় ক্রিকেটে সংশ্লিষ্ট হওয়া ছিলো সময়ের দাবী, তাই ২০০০ সালে বাবাকে হারানো তামিম-এর জন্যও সর্বদাই অনেক বড় একটি আক্ষেপ হিসেবেই থেকে গেছে তাঁর জাতীয় দলে খেলাটা তাঁর বাবার সামনে না হওয়া। তামিম জানতেন, যে তাঁর জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব

করায় সবচেয়ে খুশী হতেন তাঁর বাবা। তাই ১৪ বছরের সফল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কাটিয়ে দেওয়ার পর আজ-ও আক্ষেপে পোড়েন তামিম। বাবা ইকবাল খানের অনুপ্রেরণা, ও নিজের অর্জন বাবার সামনে প্রতীয়মান না করানোর আক্ষেপ যেনো মিলেমিশে একাকার হয়ে গেলো আজ মিরপুরে, যখন প্রথমবারের মতো বাবার হাত ধরে গুটিগুটি পায়ে মাঠে এলেন তামিম ইকবালের ছ’বছর বয়সী সন্তান আরহাম ইকবাল। পরণে লাল-সবুজ, পিঠে লেখা “আরহাম” যেনো নিজের আবির্ভাবের কথা সকলকে জানাতেই এলেন মাঠে। অন্য কোনো ভূবন থেকে ছেলের সাফল্য দেখে যেতে না পারা পিতামহ ইকবাল খান কি দেখতে পেলেন ছোট্টো ব্যাট হাতে ততোধিক ছোট্টো নাতিকে?

ইতিপূর্বে ক্রিকেট মাঠে আর কখনো দেখা যায়নি তামিমপুত্রকে। জাতীয় দলের বাকি সতীর্থদের অনুশীলনের সময় সন্তানদের সাথে আনা খুব বিরল নয়। তামিমেরই সতীর্থ মুশফিকুর রহিম একাধিকবার সাথে এনেছেন তাঁর সন্তানকে। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা-কেও সম্প্রতি নিজের সন্তানের সাথে মাঠে আসতে দেখা গেছে। তবে জনসম্মুখে, তথা ক্রিকেট মাঠে নিজের সন্তানকে কখনো না নিয়ে আসা তামিম কি আজ তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বার্তাই দিলেন ক্রিকেটাঙ্গনকে?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close