শিক্ষাঈন

প্রভাষকদের পদোন্নতির রূপরেখা প্রণয়নে ফের সভা রোববার

সম্প্রতি জারি হওয়া বেসরকারি স্কুল কলেজের নতুন এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে বিভিন্ন কলেজে কর্মরত প্রভাষকদের অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ডিগ্রি

পর্যায়ের কলেজের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া হলেও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের প্রভাষকদের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে পদোন্নতির সুযোগ দেয়া হয়েছে। প্রভাষকদের পদোন্নতির মূল্যায়ন কিভাবে হবে সে লক্ষ্যে একটি রূপরেখা প্রণয়ন করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভা আগামী

রোববার (২৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জানা গেছে, বেসরকারি স্কুল-কলেজের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ অনুযায়ী উচ্চমাধ্যমিক কলেজের ৫০ শতাংশ প্রভাষকদের চাকরির ৮ বছর পূর্তিতে জেষ্ঠ্য প্রভাষক পদে ও ডিগ্রি কলেজের ৫০ শতাংশ প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ পদোন্নতির রূপরেখা প্রণয়নে

গত ৬ মে একটি কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। এ কমিটি ইতোমধ্যে পদোন্নতির রূপরেখার খসড়া তৈরি করছে বলে দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানিয়েছে সূত্র।[inside-ad-1] সূত্র জানায়, প্রভাষকদের পদোন্নতির রূপরেখা প্রণয়ন কমিটির সভা আগামী রোববার (২৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফৌজিয়া জাফরীন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৮ মার্চ জারি করা নতুন এমপিও

নীতিমালায় বলা হয়েছে, মূল্যায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ একটি কমিটি গঠন করবে। সেই কমিটির সূচকগুলো মূল্যায়ন করে পদোন্নতি দেওয়া হবে। পদোন্নতির খসড়ায় সে কমিটি কিভাবে হবে, কে কে থাকবেন সে বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে খসড়ায়। নতুন নীতিমালায় প্রভাষকদের পদোন্নতিতে ১০০ নম্বরের মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। নীতিমালা অনুসারে, এমপিও প্রাপ্তির জ্যেষ্ঠতায় ১৫ নম্বর, পরীক্ষার ফলে ১৫ নম্বর, ক্লাসে উপস্থিতি ২০ নম্বর, নেতিবাচক রেকর্ডে না থাকলে ২০

নম্বর, বিভাগীয় মামলা না থাকলে ৫ নম্বর, সৃজনশীল দৃষ্টান্তে ১০ নম্বর, ভার্চুয়াল ক্লাস নেওয়ার দক্ষতায় ১০ নম্বর, এমফিল-পিএইচডিতে ৫ নম্বর, গবেষণা কর্ম ও স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধ থাকলে ১০ নম্বরসহ মোট ১০০ নম্বরে মূল্যায়নের মাধ্যমে পদোন্নতি পাবেন প্রভাষকরা। এদিকে প্রভাষকদের পদোন্নতির রূপরেখা কেমন হচ্ছে সে বিষয়ে দৈনিক শিক্ষাডটকমকে ধারণা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। প্রভাষকদের পদোন্নতিতে সভাপতির কর্তৃত্ব রাখা হচ্ছে। যদিও পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা প্রভাষকরা বলছেন, এমনিতেই সাধারণ শিক্ষকরা কমিটি তথা সভাপতির হাতে নানা

হয়রানির শিকার হন। তাই সভাপতির কর্তৃত্ব তারা আর চান না।  
পদোন্নতির খসড়া রূপরেখায় বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে আগের বছরের জন্য ৯টি সূচকে ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন করবেন। একই সঙ্গে ৫০ শতাংশ প্রভাষকদের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে গভর্নিং বডির সভায় ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করবে। কমিটির সভাপতি হবে গভর্নিং বডির সভাপতি বা তার প্রতিনিধি। এ কমিটির সদস্য হবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা তার প্রতিনিধি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষক প্রতিনিধি। আর কমিটির সদস্য সচিব হবেন অধ্যক্ষ। এ কমিটি সর্বশেষ ৮ বছরের সূচক মূল্যায়ন করে

পদোন্নতির জন্য প্রভাষকদের সুপারিশ করে তা গভর্নিং কমিটির সভায় পেশ করবেন। গভর্নিং বডি সভায় পদোন্নতির সুপারিশ অনুমোদন করে প্রভাষকদের পদোন্নতির আবেদন অনলাইনে আঞ্চলিক কার্যালয়ে দাখিল করবেন। প্রভাষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে যে নম্বর বণ্টন করা হচ্ছে সেখানেও গভর্নিং বডির কর্তৃত্ব থাকছে। অনুকরণীয় সৃজনশীল দৃষ্টান্তের ১০ নম্বর পেতেও প্রভাষকদের গভর্নিং বডির অনুমোদন লাগবে। আর এমফিল-পিএইচডি করতে ও গবেষণার জন্য প্রচলিতভাবেই প্রভাষকদের গভর্নিং বডির অনুমোদন লাগে। এমফিল-পিএইচডির জন্য নির্ধারিত ৫ নম্বর, গবেষণার ১০ নম্বরেও গভর্নিং বডির প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ থাকছেই।
নতুন নীতিমালায়, পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতায় ১৫ নম্বর,

পরীক্ষার ফলে ১৫ নম্বর, ক্লাসে উপস্থিতি ২০ নম্বর, নেতিবাচক রেকর্ডে না থাকলে ২০ নম্বর, বিভাগীয় মামলা না থাকলে ৫ নম্বর পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ১ দিন অনুপস্থিতির জন্য উপস্থিতির ১ নম্বর করে কাটা যাবে বলে উল্লেখ আছে রূপরেখায়। জ্যেষ্ঠতার ১৫ নম্বরের ক্ষেত্রে খসড়া রূপরেখায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্তির ৮ বছরে প্রভাষকরা ৮ নম্বর পাবেন। এরপর প্রতি এক বছরে জ্যেষ্ঠতার জন্য প্রভাষকদের ঝুলিতে ১ নম্বর করে যুক্ত হবে।
নীতিমালা অনুসারে শিক্ষাজীবনে ভালো ফলের জন্য প্রভাষকরা ভালো নম্বর পাবেন। এক্ষেত্রে এসএসসিতে ৩ নম্বর, এইচএসসিতে ৩ নম্বর, ডিগ্রিপাসের জন্য ৬ নম্বর, অনার্সের জন্য ৯ নম্বর ও মাস্টার্সের ফলের জন্য ৩ নম্বর পাবেন প্রভাষকরা। এদিকে

নীতিমালার খসড়া নিয়ে জানতে প্রভাষকরা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলছেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রেও সভাপতিদের কর্তৃত্ব থাকলে তাদের আবারও হয়রানির শিকার হতে হবে। এমনিতেও উচ্চতর গ্রেড ও বিএড স্কেল পেতে হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রভাষকরা বলছেন, ইনডেক্সের তথ্য নিয়ে ও অন্যান্য তথ্য সরাসরি প্রভাষকদের কাছ থেকে নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে পদোন্নতির বিষয়টি প্রক্রিয়া করা হোক। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে হলেও পদোন্নতি পেতে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। তবে যেভাবেই হোক, ঝামেলা ও হয়রানি মুক্তভাবে দ্রুত পদোন্নতি পেতে চাচ্ছেন প্রভাষকরা। আগে অনুপাত প্রথার জন্য বেশিরভাগ প্রভাষক পদোন্নতি পেতেন না। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর নতুন নীতিমালায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছিল। আর অনুপাত প্রথা

বাতিলের কথা বলা হলেও অর্ধেক প্রভাষকদের পদোন্নতির বিধান রাখা হয়েছিল নীতিমালায়।  শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেলের সাথেই থাকুন। ভিডিওগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close