শিক্ষাঈন

আন্দোলনের ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে না, এমন বক্তব্য হাস্যকর: শিক্ষামন্ত্রী

আন্দোলনের ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হচ্ছে না- এমন বক্তব্য হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২১ পাসের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এর চেয়ে হাস্যকর কথা আর নেই। কে কাকে আন্দোলনের ভয় দেখায়। আওয়ামী লীগ সারা জীবন আন্দোলন করেছে, আন্দোলন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে।’ বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কারা আন্দোলন করবে, যারা

জনসম্পৃক্ততাহীন, জনবিরোধী, মানুষের কাছে প্রত্যাখ্যাত। জনগণ এই সরকারের সঙ্গে আছে।’ শিক্ষার মান সম্পর্কে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার মান নিয়ে আমাদের প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু আমাদের এখান থেকে পাস করে দেশে ও বিদেশে যে সাফল্য আমরা দেখি, তাতে শিক্ষার

মান তলিয়ে গেছে- কথাটি বলার সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মানসম্পন্ন নন এ কথাগুলোও আসে না।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল এই তথ্য সঠিক নয় দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। ডা. দীপু মনি বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে গত ১৭ মাস পাঠদান বন্ধ থাকলেও টেলিভিশন ও অনলাইনের মাধ্যমে তা

পুরোপুরি চলমান ছিল। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে পাঠদান চলেছে। আর পরীক্ষাও চলেছে। সেশনজটেরও সুযোগ বেশি নেই। আমরা খুব সহজে এ সমস্যার সমাধান করতে পারব।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৬ ভাগ শিক্ষার্থী বেকার- এমন পরিসংখ্যানের ব্যাপারে ডা. দীপু মনি বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলের

কলেজগুলো, অনার্স ও মাস্টার্স করার অবকাঠামো নেই, যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নেই, জনপ্রতিনিধিদের কারণে সেসব কলেজেও কোর্স চালু করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাধ্য হয়েছে। খারাপ দিকগুলো কাটিয়ে উঠতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে। অনেকগুলো শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান

আছে, খুবই ভালো প্রতিষ্ঠান আছে। সেগুলো ছাড়া আর বাকিগুলোতে মাস্টার্সের বিষয় থাকবে না। সেগুলোতে অনার্স থাকবে, বিএ, বিএসসি, বিকম সেগুলো থাকবে। এ ছাড়া ডিপ্লোমা করানো হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মে যুক্ত হতে পারেন জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এনটিআরসি নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশন খুবই প্রয়োজনীয় বিষয়। এখন জঙ্গিবাদ,

সন্ত্রাসসহ নানা সমস্যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জাল বিস্তার করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে সজাগ ও সতর্ক থাকা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভিসি নিয়োগ দেওয়ার সময় অনেকগুলো বিষয় সামনে আনা হয়। তার একাডেমিক এক্সিলেন্স, প্রশাসনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের

গুণাবলী দেখা হয়। সবকিছু দেখে আমরা প্যানেল নির্ধারণ করি। তারপর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যায়, সেখানেও যাচাই-বাছাই করা হয়। তারপর রাষ্ট্রপতির কাছে যায়। দীর্ঘ ভোটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভিসি নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলো হাতেগোনা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close