আলোচিত বাংলাদেশ

বন্ধুর জানাজার নামাজের পেছনে সুধীর বাবুর কান্না, ছবি ভাইরাল

অকৃত্রিম বন্ধুত্ব ঘুঁচিয়ে দেয় সামাজিক সব ব্যবধান। বন্ধুত্ব অমলিন, এই সম্পর্কে নেই জাত-ধর্মের ভেদ। আবেগের সম্পর্কটি যে কতোটা গভীর হতে পারে তারই অনন্য এক উদাহরণ দেখা গেল কুমিল্লায় এক বন্ধুর বিদায়বেলায়

আরেক বন্ধুর ক্রন্দনরত একটি ছবি বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ছবিটি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৭০ বছরের সুধীর বাবুর। বাল্যবন্ধু মীর হোসেন সওদাগরের জানাজার স্থানের পেছনে কাঠের গুঁড়িতে বসে কাঁদছিলেন তিনি। হিন্দু

ধর্মাবলম্বী হওয়ায় জানাজায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। তবে বন্ধুর জন্য তার অকৃত্রিম আবেগ হৃদয় ছুঁয়েছে সবার। জানা গেছে, দুই বন্ধু কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের চাপাচো গ্রামের বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকে এক সঙ্গে আড্ডা আর খেলাধুলা করে বড় হয়েছে। এক সময় গুণবতী বাজারে ব্যবসা শুরু করেন

দুইজন। মুদির দোকান ছিল আমীর হোসেনের। তার পাশেই পান বিক্রি করতেন সুধীর বাবু। সুযোগ পেলেই বন্ধুর দোকানে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতেন। অবসর সময় কাটত বেশ। কিন্তু মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আমীর হোসেন। বুধবার তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনলে বন্ধুকে একনজর দেখার জন্য ছুটে যান সুধীর বাবু। আকস্মিক

মৃত্যু তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। বন্ধুকে কবর দেওয়া পর্যন্ত পাশেই ছিলেন তিনি। বুধবার বেলা ১১টায় তার জানাজা হয়। তারপর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। গুণবতী বাজারের স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন টুটুল বলেন, আমির ও সুধীর বাবু দুজনেই খুব ভাল মানুষ। তারা ভাল বন্ধুও ছিলেন। বন্ধুর জন্য বন্ধু এভাবে কান্না করতে কখনও দেখিনি। এমন ঘটনা

আমাদের এলাকার সবাইকে অবাক করেছে। সত্যিকারের বন্ধুত্বের বন্ধন কত শক্তিশালী হতে পারে তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সুধীর বাবু। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক তার ফেসবুক আইডিতে এই ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘আমরা মারা গেলে সুধীর বাবুরা এসে

চোখের জল ফেলবে এটাই আমাদের সমাজ এবং দেশ। আর সুধীর বাবুর মৃত লাশের শেষ যাত্রা যদি আমাদের সম্মুখ দিয়ে ঘটে, তবে তার লাশের সম্মানে দাঁড়িয়ে যাব। এটাই ইসলাম, এটাই বাংলাদেশ। সবাই মিলে মিশে থাকি। যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করি। সবার জন্য শুভকামনা।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close