আলোচিত নিউজ

ব্যস্ত সময় পার করছেন ডকইয়ার্ডের শ্রমিকরা

সাগরে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও নদীতে ইলিশের আকাল। এসময় জেলে ও আড়তদারদের কর্মব্যস্ততা না থাকলেও ব্যস্ত রয়েছে সামরাজ মৎসঘাট এলাকার ডকইয়ার্ডে কর্মরত শ্রমিকরা সরেজমিনে দেখা গেছে,

বৃহৎ এ মৎস্যঘাট এলাকার ডকইয়ার্ডগুলোতে টুংটাং শব্দ চলছে অবিরাম। সকাল থেকে রাত অবধি শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন নতুন ট্রলার তৈরি কিংবা মেরামতে। কেউ কাঠ জোড়া দিচ্ছে আবার কেউ ওয়েল্ডিং করেছে। স্থানীয় জেলেরা জানান,

পাঁচকপাট মৎস্যঘাট, আটকপাট মৎস্যঘাট ও নুরাবাদ গাছিরখাল, নুরাবাদ হাজিরহাট রাস্তার মাথা ও মাদ্রাজের সামরাজ মৎস্যঘাটে পাঁচটি ডকইয়ার্ড রয়েছে। এসব ডকইয়ার্ডগুলোর অল্প কয়েকটি লেন থাকায় নতুন ট্রলার তৈরী ও মেরামতে জেলেদের অপেক্ষা

করতে হয় দীর্ঘ সময়। ফলে মেরামত যোগ্য ট্রলার বা নৌকা নিয়ে সাগরে মৎস্য শিকারে যেতে অনেক বেগ পেতে হয় জেলেদের। পাঁচকপাট স্লুইসঘাট এলাকার আবু কালাম মিস্ত্রি বলেন, ‘এ অঞ্চলের সমুদ্রগামী ট্রলারগুলো দৈর্ঘে ৪০ থেকে ৬০ ফুট ও প্রস্থে ১৪ থেকে ১৫ ফুট হয়ে থাকে। ডকইয়ার্ড স্বল্পতা ও পর্যাপ্ত যায়গা

না থাকায় এসব ট্রলার নদী ও খালপাড়ের পরিত্যাক্ত যায়গাতেই বেশিরভাগ সময় মেরামতসহ নতুনভাবে তৈরি করে। একটি নতুন বড় ট্রলারের বডি তৈরী করতে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার মজুরি চুক্তিতে বানানো হয়। প্রথমে ট্রলারের কাঠামো তৈরী ও গলুই, চান্দিনা, কেবিন, রান্নাঘর ও টয়লেট ইত্যাদি সুন্দর নকশা দ্বারা তৈরী করা হয়।’

সামরাজের ট্রলার মিস্ত্রি সবুজ বলেন, ‘আমরা নতুন ট্রলারের পুটিং ও বুশ ফিটিং করতে প্রায় দেড় লাখ টাকা মজুরি চুক্তিতে করে থাকি। ডকইয়ার্ডে নতুন বা পুরাতন ট্রলারগুলোর কাঠের প্রতিটি জোড়ায় সুক্ষ্মভাবে তুলা বা সুতার সলতে ঢুকানোর পরে কেরোসিন ও ধূপ আর পানির আঠালো মিশ্রণে সলতের ওপর পুটিং দেই। ট্রলারগুলোর নিচের অংশে আলকাতরা দিয়ে প্রলেপ

শেষে কাদামাটির প্রলেপ দেই। সর্বশেষ কাদামাটি শুকিয়ে গেলে কিছুক্ষণ আগুনে পুড়িয়ে আলকাতরাকে ট্রলারের নিচের অংশের কাঠের সঙ্গে মজবুত করে দেই। শেষে ট্রলারের পিছনে বুশ মিস্ত্রি ইঞ্জিনের সেপে পাখা সেটিং করে দেন।’ ট্রলার মালিক কবির হোসেন জানান, ‘ইঞ্জিন, জেনারেটর ও জাল-দড়িসহ একটি ট্রলার তৈরী করতে ৫০ লাখ টাকা থেকে কোটি টাকার বেশি খরচ হয়। তিনি জানান, চাম্বল, গর্জন, মেহগনি

ও ত্রিশূল জাতের কাঠ দিয়ে বেশিরভাগ ট্রলার বানানো হয়ে থাকে। সরকার এখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও এর উন্নয়নে পদক্ষেপ নিলে তা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’ ঠিকাদার মামুন সেরাং বলেন, ‘ডকইয়ার্ড ভাড়া বাবদ একটি ট্রলার বা নৌকার জন্য প্রতি সপ্তাহে সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে শুরু করে মাঝারি সাত হাজার ও বড় ট্রলার ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় ডকইয়ার্ড মালিককে।’ সামরাজ ডকইয়ার্ডের সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বছরের যে সময়গুলোতে ইলিশ

থাকেনা এবং ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকে সেই সময়টাতেই আমাদের ডকইয়ার্ডে কাজের চাপ বেশি থাকে। এসময় বেশিরভাগ ট্রলার মালিক তাঁদের ট্রলারগুলোর মেরামত করান। এছাড়াও অনেকে নতুন ট্রলার ও নৌকা তৈরী করেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের ডকইয়ার্ডটি চার বছর আগে চালু করা হয়েছে। আমাদের বছরে পাঁচ লাখ টাকার মতো খরচ হলেও প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close