আন্তর্জাতিক

হারেনি সেনাবাহিনী, হেরেছে আফগান রাজনীতি ও নেতৃত্ব মুখ খুললেন সদ্য সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াসিন জিয়া …

আফগানিস্তানের সদ্য সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াসিন জিয়া বলেছেন, আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী তালেবানের কাছে হারেনি, বরং হেরেছে দেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। আবার তালেবানের হাতে কাবুলের

পতনের কারণও একই। আজ রোববার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সেনাবাহিনীকে বিশ্ব সম্প্রদায় ও আফগান জনগণের দোষারোপ করা উচিত নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছে। সঠিক স্থানে ও যোগ্যতা

অনুসারে সেনা কর্মকর্তাদের বসানো হয়নি। অভিজ্ঞতা ও মেধা অনুসারে কমান্ডারদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সাবেক সেনাপ্রধান কাবুলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির দেশ ত্যাগের বিষয়ে সাবেক এ

সেনাপ্রধান বলেন, প্রেসিডেন্ট প্যালেস নিরাপদ ছিল। ঘানির দেশ ত্যাগের দরকার ছিল না। তালেবানের পক্ষ থেকে তার প্রতি কোনো হুমকিও ছিল না। এদিকে তালেবানের প্রতি ইয়াসিন জিয়া একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন,

একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করা হোক। রাষ্ট্রের প্রধান হতে হবে একজন নির্বাচিত ব্যক্তিকে। সাবেক সেনাপ্রধান এমন সময় এসব কথা বললেন, যখন তালেবান এখনও দেশের সরকারি বাহিনীর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি এবং এখনও সরকার

গঠনের জন্য তালেবান নেতারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করে তালেবান বাহিনী। তার আগে একের পর এক প্রাদেশিক রাজধানী ও শহর তালেবানের হাতে চলে যাচ্ছিল, কিন্তু দেশটির সেনবাহিনী কার্যত কোনো প্রতিরোধই

গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে সেনাবাহিনীসহ সরকারি বাহিনীর যোগ্যতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিনা বাধায় কাবুলও দখল হয়ে যায়। ইয়াসিন জিয়ার আগের সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীতে অসহযোগিতার অভিযোগও

উঠেছিল। তিন লাখ সেনাবাহিনীর এ পরাজয় বিশ্বে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার আফগান সেনাবাহিনীর পেছনে ৮৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে বলে দাবি করে। এখন প্রশ্ন উঠছে, আসলে যুক্তরাষ্ট্র কাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে, কিংবা কাদের পেছনে অর্থ ঢেলেছে। সরকারি বাহিনীর সব অস্ত্র এখন তালেবানের হাতে চলে যাওয়ায় খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: খামা প্রেস এজেন্সি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close