আন্তর্জাতিক

তালেবান ইস্যুতে কঠিন জায়গায় ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক

তালেবানকে দমন করা এবং সন্ত্রাস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ভারত-আমেরিকার কৌশলগত অবস্থান এই মুহূর্তে আগের থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। এমনটাই মনে করছেন ইন্দো-আমেরিকান আইনজীবী

আর ও খান্না। প্রতিনিধি পরিষদে সিলিকন ভ্যালির প্রতিনিধিত্বকারী খান্না ডেমোক্রেটিক ভাইস চেয়ারম্যান পদে আসীন। খান্না বলেছিলেন যে, তিনি জাতীয় সুরক্ষায় ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন।

কিন্তু এখন ভারতীয়দের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- আমরা কী করব? ভারত সরকার জানিয়েছে, আমাদের নীতি, ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’। সত্যিকথা বলতে, ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ ছাড়া অন্য কোনও নীতি গ্রহণের কি কোনও উপায় রয়েছে? আমেরিকা কেন

এমন করল? এর সবটাই ভারতের বিদেশমন্ত্রণালয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত! সম্পর্কিত খবর তালেবানের ‘নতুন বন্ধু’ রাশিয়া তালেবানের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আসামে গ্রে’প্তার ১৪ তালেবানের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে

আসামে গ্রে’প্তার ১৪ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আফগানিস্তানে ভারপ্রাপ্ত আমেরিকার বিশেষ প্রতিনিধি যখন তালেবানের ডেপুটি লিডার মৌলানা আবদুল গনি বরাদরের সঙ্গে
দোহাতে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন, তখন ঠিক হয়েছিল

যে, আমেরিকার সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। সেই সময় মার্কিন মসনদে বসে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে কথাই জো বাইডেন বললেন ২০২১-এর ১৪ এপ্রিল, আমেরিকা ৯/১১-র বার্ষিকীর আগেই নিঃশর্তে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। আসলে,

আমেরিকা ভেবেছিল, এই সময়ে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া ভাল। তার কারণ, যে সরকার আফগানিস্তানে ছিল, তারা দুর্নীতির কারণে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা হারিয়েছিল। আর, আমেরিকাও নানা আর্থিক সমস্যায় জেরবার। সেখানকার নাগরিকরা মনে করেছে, আমেরিকার ইরাক, আফগানিস্তানে নাক গলানোর

দরকারটা কী! কিন্তু তালেবানরা ক্ষমতার স্বাদ পেয়েই, মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে, এভাবে রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলের জন্য বিস্ফোরণ ঘটাবে- তা বাইডেন প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। এখন তালেবান সরকার কী চরিত্রের হবে, তা নিয়েও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে। এক হতে পারে,

প্রচণ্ড কট্টরবাদী তালেবান সরকার, যা শুধু পাকিস্তান নয়, চীন ও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণেও থাকবে। আবার অন্যদিকে হামিদ কারজাই বা আবদুল্লার মতো ব্যক্তিত্ব যদি সেই সরকারের মধ্যে থাকেন এবং মিলিজুলি একটা সরকার হয়- তাহলে সেখানে ভারতের নিয়ন্ত্রণও অসম্ভব নয়। সুতরাং, সব শেষে বলতে হয় খুব সাবধানে এখন পা ফেলতে হবে। এটা এমন একটা ইস্যু, যা বিশ্ব রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close