খেলাধুলা

১৬ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে দিলো বাংলাদেশ দল

শেষ টি-টোয়েন্টিতেও অজিদের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করলো বাংলাদেশ। আগেই প্রথম ৩ ম্যাচে জয় নিশ্চিতের পর চতুর্থ ম্যাচ হারলেও আজ শেষ ম্যাচে অজিদের ৬০ রানে হারিয়ে দিয়ে ইতিহাস

গড়েছে মাহমুদউল্লার দল।
সোমবার সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে পুরো ২০ ওভার খেলে তারা তুলে ৮ উইকেটে ১২২ রান। জবাবে ব্যাট

করতে নেমে মাত্র ৬২ রানেই অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এটাই অজিদের সর্বনিম্ন রান।
এর আগে তাদের সর্বনিম্ন রান ছিল ৭৯। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাউদাম্পটে এই লজ্জায় পড়ার ১৬ বছর পর এতো বড়

লজ্জায় পড়ল অজিরা। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ডেনিয়েল ক্রিস্টিয়ানকে হারায় অজিরা। তাকে ফিরিয়ে দেন নাসুম আহমেদ। মিচেল মার্শকেও ফেরান তিনিই। এরপর কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড। ২২ রান করা অজি অধিনায়ককে বোল্ড করেন সাকিব। এরপর আর তেমন কেউই দাঁড়াতে পারেনি।

সাকিব-সাইফুদ্দিনের তোপে মাত্র ৬২ রানেই শেষ হয় অজিদের ইনিংস। বাংলাদেশের পক্ষে সাকিব একাই শিকার করেন ৪ উইকেট, মাত্র ৯ রানের খরচায়। এছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন তিনটি ও নাসুম আহমেদ দুটি উইকেট শিকার করেন। সাকিবের নেতৃত্বে বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ১৩.৪ ওভারেই বাংলাদেশ পায় ৬০ রানের বিশাল জয়। এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে

বাংলাদেশের ছয় ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কে পৌঁছালেও কেউই ইনিংস টানতে পারেননি। ওপেনার নাঈম শেখ ২৩ বলে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন ২৩ বলে। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ পাঁচে নেমে ১৯ রান করেন ১৪ বলে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান আসে অতিরিক্ত খাত থেকে। অস্ট্রেলিয়ার নাথান এলিস ১৬ ও ড্যান

ক্রিস্টিয়ান ১৭ রানে ২টি করে উইকেট নেন। ১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল ৫ উইকেটে ১০২ রান। পিচের কথা বিবেচনায় নিয়েও সেখান থেকে ১৩০-১৪০ রানে পৌঁছানো ছিল খুবই সম্ভব। কিন্তু অজি বোলারদের সামনে রীতিমতো খাবি খায় ব্যাটসম্যানরা। তারা যোগ করতে পারে কেবল ২০ রান। এ সময়ে

বাউন্ডারি আসে কেবল একটি! আগের চার ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের পতন হয়েছিল দ্রুত। নাঈম ও সৌম্য সরকারের উদ্বোধনী জুটি তুলতে পেরেছিল যথাক্রমে ১৫, ৯, ৩ ও ২৪ রান। ব্যর্থতার ধারা ভাঙতে এদিন আনা হয় বদল। তা কাজেও লেগে যায়। নাঈমের সঙ্গে শেখ মেহেদী হাসান ৪২ রান আনেন ৪.৩

ওভারে। শুরুর তিন ওভারে আলাদা আলাদা স্পিনার ব্যবহার করে অজিরা। তারা খরচ করেন ৩৩ রান। প্রথম ওভারে অ্যাশটন টার্নারের শেষ বলে ফাইন লেগ দিয়ে চার মারেন শেখ মেহেদী। পরের ওভারে বাঁহাতি স্পিনার অ্যাশটন অ্যাগারকে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কায় স্বাগত জানান নাঈম। একাদশে ফেরা লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার করা তৃতীয় ওভারে আসে দুটি চার।

পঞ্চম ওভারে আক্রমণে ফিরে স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার টার্নার ভাঙেন উদ্বোধনী জুটি। শেখ মেহেদীর দুর্ভাগ্যই বলতে হবে। ব্যাকফুটে গিয়ে পুল করার চেষ্টায় তার হাত থেকে ছুটে বেরিয়ে যায় ব্যাট। এর আগে ব্যাটের নিচের অংশে লেগে উঁচুতে উঠে যায় বল। অনায়াসে ক্যাচ লুফে নেন অ্যাগার। ১২ বলে ১৩ রান আসে শেখ মেহেদীর ব্যাট থেকে। ৬ ওভারে শেষে বাংলাদেশে তোলে ১ উইকেটে ৪৬ রান। সিরিজে এটাই পাওয়ার প্লেতে তাদের সর্বোচ্চ

রান। আগের চার ম্যাচে এই পর্যায়ে তারা তুলেছিল যথাক্রমে ৩৩, ৩৮, ২৮ ও ৩০ রান। তবে শুরুর রান তোলার গতি কমে আসে ধীরে ধীরে। সঙ্গে নিয়মিত বিরতিতে চলে উইকেটের পতন। ধুঁকতে থাকা বাঁহাতি নাঈম রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে শর্ট থার্ড ম্যানে ধরা পড়েন অ্যাগারের হাতে। তিনি ২৩ বলে করেন ২৩ রান। পেস বোলিং অলরাউন্ডার ড্যান ক্রিস্টিয়ানের ডেলিভারি তার ব্যাটের উপরের অংশে লেগে উঠে যায়। পরের ওভারের শেষ বলে সাকিবও ধরেন সাজঘরের পথ। উইকেটে স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না তিনি। তার অস্বস্তির ইতি টানেন জাম্পা।

২০ বলে কেবল ১১ রান করেন সাকিব। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৮৪ ম্যাচের ৮৩ ইনিংসে প্রথমবার এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন তিনি। ফলে ১০ ওভারে বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে জমা করে ৩ উইকেটে ৬০ রান। পরের ১০ ওভারে আরও ৫ উইকেট খুইয়ে তারা যোগ করতে পারে ৬২ রান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close