জাতীয়

তদন্ত চায় ভারত, আপত্তি বাংলাদেশের!

উৎপাদনমূল্যের চেয়ে কম মূল্যে স্বচ্ছ কাচ (ফ্লোটিং গ্লাস) রপ্তানি হচ্ছে- এই অভিযোগ তুলে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের জন্য ভারতের তদন্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ। গত বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত

এক সভায় বাংলাদেশ এই অবস্থান চূড়ান্ত করেছে। এখন লিখিতভাবে বিষয়টি ভারতের ডিজিটিআর (ডিরেক্টর জেনারেল অব ট্রেড রেমিডিস)কে জানিয়ে দেওয়া হবে। ভারত তিনটি বাংলাদেশি কোম্পানি- নাসির গ্লাস, পিএইচপি ফ্যামিলি এবং উসমানিয়া গ্লাস

শিট ফ্যাক্টরি লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছে, বাংলাদেশের এই কোম্পানিগুলো ফ্লোটিং গ্লাস উৎপাদনে যে খরচ হয় তার চেয়ে কম মূল্যে ভারতে গ্লাস রপ্তানি করছে। এ কারণে দেশটির দেশীয় কাচশিল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে। আর এই যুক্তি দিয়ে এখন বাংলাদেশের কাচ রপ্তানিতে অ্যান্টিডাম্পিং

শুল্ক আরোপ করতে চাইছে ভারত। তার আগে দেশটি বাংলাদেশের কাচ রপ্তানি নিয়ে তদন্তের বিষয়ে গত মাসে একটি নোটিস পাঠিয়েছে। তদন্তের পর ভারত ৫ বছরের জন্য বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর কাচ রপ্তানির ওপর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শুল্ক আরোপ (অ্যান্টিডাম্পিং) করবে। সূত্র জানায়, গত মাসে ভারত

বাংলাদেশকে জানায় যে, তাদের কাচ নির্মাণ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ডাম্পিংয়ের অভিযোগ করেছে। ভারতীয় কোম্পানিগুলোর অভিযোগ- বাংলাদেশ থেকে কম মূল্যে কাচ রপ্তানির কারণে তারা ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই অভিযোগ পেয়ে দেশটির ডিজিটিআর বাংলাদেশের ৩ কোম্পানির নাম উল্লেখ

করে সম্প্রতি অ্যান্টিডাম্পিং আরোপের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে তদন্তের নোটিস পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। ৬ আগস্টের মধ্যে এই নোটিসের জবাব দিতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা বাংলাদেশের কোম্পানি তিনটির সঙ্গে কথা বলেছি।

দেশ থেকে কাচ রপ্তানির পরিমাণ, উৎপাদন ব্যয় প্রভৃতি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে দেখেছি, ভারত অ্যান্টিডাম্পিং আরোপের বিষয়ে যে তদন্ত করতে চাইছে সেটি যৌক্তিক নয়। কারণ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) বিধি অনুযায়ী অ্যান্টিডাম্পিং আরোপের ক্ষেত্রে যে তিনটি প্রক্রিয়ায় পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা হয় (পণ্যটির অভ্যন্তরীণ বাজারমূল্য, বিদেশে কত মূল্যে রপ্তানি হয় এবং

কনস্ট্রাকটেড ভ্যালু-অর্থাৎ পণ্যটির কাঁচামাল, শ্রম খরচ, ট্যাক্স-ভ্যাট সব মিলিয়ে যে উৎপাদন ব্যয় সেটি হিসাবে নেওয়া), এখানে সেই প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করা হয়নি। তবে তারা কোম্পানিগুলোর কাছে প্রশ্ন পাঠিয়ে নোটিসের যে উত্তর চেয়েছে, সেই উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা অনুপ্রাণিত করছি। নোটিসের বিষয়ে জানতে চাইলে নাছির গ্রুপের হেড অব এক্সপোর্ট ফখরুজ্জামান বাংলাদেশ

প্রতিদিনকে বলেন, অ্যান্টিডাম্পিংয়ের বিষয়ে ভারতের ডিজিটিআর যে নোটিস পাঠিয়েছে, আমরা তার জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এ জন্য আমরা সময় চেয়েছি। কারণ তারা গত ৬ জুলাই মেইল পাঠিয়ে এক মাসের সময় দিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে বলেছে। এরমধ্যে লকডাউনে অফিস-আদালত সব বন্ধ থাকায় প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে- আমরা ভারতের প্রশ্নের উত্তর দেব। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ থেকে মাত্র ৩০ লাখ ডলারের ফ্লোটিং গ্লাস

রপ্তানি হয় বছরে। এর বেশির ভাগই যায় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে। এখন বাংলাদেশের কাচ রপ্তানিতে অ্যান্টিডাম্পিং আরোপ হলে সেভেন সিস্টার্সের রাজ্যগুলোতে কাচের দাম বেড়ে যাবে। এর আগে ইরান এবং মালয়েশিয়া থেকেও ফ্লোটিং গ্লাস আমদানিতে
অ্যান্টিডাম্পিং আরোপ করেছে ভারত। এরই মধ্যে বাংলাদেশের পাট, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ও ফিশিং নেট রপ্তানির ওপর অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। পাটের ওপর আরোপিত অ্যান্টিডাম্পিংয়ের নির্ধারিত মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এখন দেশটি আবার অ্যান্টিডাম্পিং আরোপের জন্য পর্যালোচনার (সানসেট রিভিউ) নোটিস পাঠিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close