আলোচিত বাংলাদেশ

সেপ্টেম্ব,রেই ১০ হাজার কন,স্টেবল নিয়োগ বিজ্ঞ,প্তি

চলতি বছরে প্রায় ১০ হাজার কনস্টেবল নেবে বাংলাদেশ পুলিশ। ২০২০ সালের শেষদিকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং যোগ্যতা সংক্রান্ত কিছু মানদণ্ড নির্ধারণের কারণে

তা পিছিয়ে যায়। এরপর এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেশে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির ফলে তা আবারও পিছিয়ে যায়। বুধবার (৪ আগস্ট) পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই

১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। পুলিশ সদর দফতর থেকে জানা গেছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি প্রায় শেষপর্যায়ে। শুধুমাত্র করোনার প্রাদুর্ভাব কম হলেই সেপ্টেম্বর মাসেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এবার কনস্টেবল পদে আবেদনের জন্য শিক্ষাগত ও শারীরিক যোগ্যতায়

কিছুটা পরিবর্তন আনা হবে। জানা যায়, বাংলাদেশ পুলিশ নিয়মিত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। চলতি বছরের জুন মাসে এক চিঠির মাধ্যমে সদর দফতরের

এআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-২) মো. নাসিরুল ইসলাম এই নির্দেশনা দেন। এই চিঠি এসপি ছাড়াও দেশের সব বিভাগের ডিআইজিদের পাঠানো হয়। পুলিশে প্রায় ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে আগামী সেপ্টেম্বরে। দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্সে রেখে এই নিয়োগ হবে সম্পূর্ণ নতুন

পদ্ধতিতে। পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল (পিআরবি), ১৯৪৩-এর কিছু প্রবিধান সংশোধন করে কনস্টেবল ও নারী কনস্টেবলদের ন্যূনতম উচ্চতা ২ ইঞ্চি করে বাড়ানো হয়েছে। আগের মতো আবেদন করলেই ডাকা হবে না পুলিশ লাইনে। উচ্চতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সম্ভাব্য যোগ্য প্রার্থীদের অটো স্ক্রিনিং করে

অধিকতর যোগ্যদের ডাকা হবে। নিয়োগ বিধিতে এবারই প্রথম কণ্ঠস্বর পরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর পিআরবি সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এরই মধ্যে প্রস্তাবটি অনুমোদন হয়েছে, যা দু-এক দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ হবে। শুধু কনস্টেবল নয়,

এসআই, টিএসআই ও সার্জেন্টদের নিয়োগ বিধিও সংশোধন করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (অপারেশন ও প্ল্যানিং) মো. হায়দার আলী খান বলেন, ‘বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন দক্ষ পুলিশ প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। আমরা এমন একটি নিয়োগ চাই,

যাতে প্রত্যেক পুলিশ সদস্য ধাপে ধাপে নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। এ জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত নিয়োগ পদ্ধতি, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত লজিস্টিকস। মানুষের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী পুলিশকে এক্ষুনি তৈরি করা না গেলে কাক্সিক্ষত ভিশন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সে কারণে নিয়োগবিধি সংস্কার ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। জনগণের আকাক্সিক্ষত পুলিশ পেতে হলে নিয়োগে অবশ্যই দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। তাই

আমরা পুলিশে যে কোনো নিয়োগে অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছি। আইজিপি মহোদয় ইতিমধ্যে জনগণের কাক্সিক্ষত পুলিশ পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। পুলিশ সদর দফতর সেসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কাজ করছে।’ বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে ২ লাখ ১০ হাজারের মতো ফোর্স রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধাপে ধাপে আরও ৫০ হাজার পুলিশ নিয়োগের নির্দেশনা দেন। তবে করোনার কারণে ২০২০ সালে পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close