আন্তর্জাতিক

কৃত্রিমভাবে মাত্রীগর্ভের আ’বিষ্কার নিঃসন্তান দ’ম্পতির জন্য এনে দেবে আশার আলো!

কৃত্রি’মভাবে মাত্রীগর্ভের আবিষ্কার নিঃসন্তান দম্পতির জন্য এনে দেবে আশার আলো! নিঃসন্দেহে বি’জ্ঞানের দুনিয়ায় এটা ছিল একটা যুগান্তকারি এবং একই সঙ্গে বি’স্ময়কর সৃষ্টি। যদিও ওই সময় এই সৃষ্ঠি’তিকে ঘিরে নানা

কথা ওঠে ও উন্মাদনা তৈরি হয়, কারণ তখন মনে করা হয়েছিল যে এই প্রযু’ক্তিটি “ডিজাইনার বেবিস” তৈরি করার জন্য এই প্রযুক্তিটির অপব্য’বহার হতে পারে।
এর প্রায় কুড়িবছর পর একদিন আমি যখন আমার অ’ফিসে বসেছিলাম তখন ‘নেচার’ বইটিতে একটি লেখা দেখে আমার

কিছু পুরোনো কথা মনে পরে গেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলা’ডেলফিয়ার কয়েকজন গবেষক একটি বিস্ময়কর ব্যা’পার ঘটিয়েছেন। ওখানকার চিলড্রেন হস্পিটাল নামক বা’চাদের একটি হাসপাতালের কয়েকজন গবেষক মিলে একটি কৃত্রিম গর্ভের সৃষ্টি করেছেন। এখনও পর্যন্ত প্ৰিমেচিযর শিশু জ’ন্মালে তাদের

ইনকিউবেটরের মধ্যে ভে’ন্টিলেটরে রাখা হত। কিন্তু গবেষকরা এখন একটা বিকল্প উপায় বের করেছেন। তাঁরা যে কৃত্রিম গর্ভের সৃষ্টি করেছেন সেটা তরল প’দার্থে পূর্ণ একটা স্বচ্ছ আধার যার মধ্যে ভ্রুণকে স্থাপন করা হবে এবং তা বে’ড়ে উঠবে সেখানেই। এহেন কৃ’ত্রিম গর্ভটিতে একটি ভেড়া ভ্রুণকে পরীক্ষামূলক ভাবে

রাখা হয়। গবে’ষকদের ওই দলটি ঠিক কী ভাবে এই সৃষ্ঠিটা সম্ভব করেছিল সেটা ওই দলেরই অন্যতম গবেষক ড. এমিলী পা’র্ট্রিজ বিশ্লেষণ করলেন। তাঁরা ওই আধারটির মধ্যে অতন্ত্য ছোট একটা ভেড়া শা’বকের ভ্রুণ পরীক্ষামূলক ভাবে ওই কৃত্রিম গর্ভে স্থাপন করা হয়। এর ঠিক চার সপ্তাহের মধ্যে দেখা যায় যে ছোট্ট শাব’কটির গায় উল গজিয়েছে, সে নিশ্বাস নিচ্ছে ও আঁধারের

তরল পদার্থটির মধ্যে চোখ খুলে সাঁতার কাটছে। মায়ের গর্ভে ঠিক যে ভাবে ভ্রুণ থাকে ঠিক একই রকম ভাবে গবে’ষকরা একটি কৃত্রিম গর্ভ তৈরি করে। একজন মহি’লার জরায়ুতে একটা তরল পদার্থ থাকে যাকে এমন ধরণের ‘ফ্লুইড থাকে এই কৃত্রিম গর্ভ বিশেষ একটি তরল পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয়। এবং এর সঙ্গে

যোগ করা হয় যন্ত্রচালিত একটি প্লা’সেন্টাও যার মাধ্যমে শাবকের দেহে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে। এই দলের প্রধান গবেষক, ড. এলেন ডাব’লু ফ্ল্যক বলেন যে, “পৃমেচিওর বাচাদের মৃত্যুর হারকে অনেক কম করার জন্য এই পদ্ধতিটি এখনও অন্য কোথাও কেউ করেননি”। ফ্ল্যক একজন ভ্রুণ সার্জন ও ফিলাডে’লফিয়ার চিলড্রেন’স হসপিটালে সেন্টার ফর ফিটাল রিসার্চ-এর পরিচালক।

যদিও গবেষ’কের দল তাঁদের সৃষ্টিতে বেশ সন্তুষ্ট হলেও মানুষের ক্ষেত্রে এই গবেষণাকে কাজে লাগাবেন আরও বেশ কিছু ব’ছর পর। শিশু মৃত্যুর একটা বড় কারণ হল নির্দিষ্ট সম’য়ের অনেক আগেই তাদের জন্ম হয়ে যাওয়া। যেই সব শিশুরা ২৬ সপ্তাহের আগেই জন্মায় তাদের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ থাকে ও অনেক সময় তারা নানা প্রতিব’ন্ধকতা নিয়েও জন্মায়। ডলি প্রথম স্তনপায়ী প্রাণী যার ক্লোনিং’ করা হয়েছিল এই সব’ শিশুদের

‘ফুসফুসটা সব চেয়ে বেশি ‘আক্রান্ত হয়। কারণ একটা ভুল যখ’ন গর্ভে তিলে তিলে তৈরি হয় তখন তার শরীরে’ একদম শেষ ফুসফুস ‘তৈরি হয় তাই এই শি’শুদের যাদের আবার ইংরেজিতে পৃমিস’ও বলা হয় জন্মানোর পরে তাদের ফুসফুস’ যাতে ভালো ভাবে তৈরি ‘হতে পারে তাদের ভেন্টি’লেটরে রাখা হয়। সাম্প্রতিক এই গবেষ’ণাটি ডাক্তারদের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে। ওই দলটির মতে এই কৃত্রিক গর্ভটি মায়ের গর্ভ ও

বাইরের জগতের মধ্যে একটা যোগসূত্র স্থাপন করবে। এছাড়াও তাঁরা পরীক্ষা’মূলক ভাবে ভেড়ার থেকে নানা বয়সের বহু ভ্রূণ ওই কৃ’ত্রিম গর্ভের মধ্যে স্থাপন করেন এবং দেখা যায় যে সেই ভ্রূণগুলো বেশ ভালো স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে উঠছে। যদিও এই গবেষণাটি নানা বি’তর্ক তৈরি করেছে। আগে বিতর্কের ভা’লো কথাগুলো বলি: এর ফলে শিশু মৃত্যু’র হার অনেক কম হবে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেসান জানাচ্ছে’ যে মতে বিশ্বের নানা জায়গায় প্রত্যেক বছর প্রায় ১৫ মিলিয়ন পৃমেচিওর শিশু’দের মৃত্যু হয়। আর ভারতে ‘এই সংখ্যাটা প্রায় দশ লক্ষেরও বেশি পৌঁছে

গেছে। যদিও এই সব শিশুদের মৃত্যুর সঠিক সংখ্যাটা’ বলা সম্ভব নয় কারণ উন্নয়নশীল দেশগুলিতে দরিদ্র লোকেদের মধ্যে ও উ’ন্নত দেশের উচ্চ বৃত্তদের সঙ্গে কোনও তুলনামূলক সমীক্ষা এখনও পর্যন্ত্য’ করা হয়নি। উন্নয়’নশীল দেশগুলিতে দরিদ্র লোকেদের মধ্যে এই ‘শিশুদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। সঠিক সংখ্যাটা হয়ত এখনকার সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। তবে গর্ভকালীন জটিলতার সৃষ্টি হলে বিজ্ঞানে’র এই পদ্ধতি অবলম্বন

করলে মা ও সন্তান দুজনেই স্ব’স্তি পেতে পারে। মাতৃকালীন জটিলতা’য় একজন মা গর্ভাবস্থার পুরো সময়টা গর্ভে ভ্রুন ধারণ করে রাখতে অক্ষম হওয়ায় অনেক সময় গর্ভপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়, সে ক্ষত্রে এই বায়ো-ব্যাগটির সাহায্য নে’ওয়া যেতে পারে। এই আধারটিকে অনে’ক সময় বায়ো-ব্যাগও বলা হয়। ঠিক একইভাবে কোনও ‘মায়ের যদি জীবনের আশঙ্কা জনক ‘কোনও অসুখ থেকে থাকে যেমন উচ্চ রক্ত’ চাপ, ডিয়াবিটিস কিংবা পৃক্ল্যামপসিয়া তাহলে সেই শিশুটিকে ওই ‘কৃত্রিম গর্ভে রাখা যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close