আলোচিত বাংলাদেশ

মৃত্যুর ৫ ঘণ্টা পরও আসেনি পরিবারের কেউ, দাফন করল ছাত্রলীগ !

হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন দেড় মাস। তাকে দেখতে আসেনি কেউ। শনিবার তার মৃত্যুর পর ৫ ঘণ্টা পেরোলেও মরদেহ নিতে আসেনি কোনো স্বজন। খবর পেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগ কর্মীরা গিয়ে দাফন করেন। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

এই ঘটনা ঘটে শনিবার। সেখানে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা শেষে মৃত্যু হয় ফাতেমা বেওয়া নামের এক নিঃসঙ্গ বৃদ্ধার। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উম্মে হাফসা এই তথ্য জানান। হাসপাতাল ও স্থানীয়

সূত্রে জানা যায়, ফাতেমার স্বামী লালমনিহাটের ছিনাই এলাকার আজাহার আলী প্রায় এক বছর আগে মারা যান। এরপর তিনি চলে আসেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায়, ভাইদের বাড়িতে। বৃদ্ধার এক ছেলে ও এক মেয়ে নিজ পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। তিন ভাই দরিদ্র। ফাতেমা

অসুস্থ হয়ে পড়ায় ভাইয়েরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করায়।
চিকিৎসক উম্মে হাফসা জানান, এই দেড় মাসে তাকে হাসপাতালে কেউ দেখতে আসেনি। শনিবার বিকেলে তিনি মারা যান। বাড়িতে খবর পাঠানো হলেও মরদেহ কেউ নিতে আসেনি। খবর পেয়ে

রাত দশটার দিকে উপজেলার ছাত্রলীগের সদস্যরা হাসপাতালে যায়।
তারাও বৃদ্ধার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কেউ না আসায় রাত ১১টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে অন্য সদস্যরা মরদেহ দাফনের

প্রস্তুতি নেন। মেহেদী বলেন, ‘বৃদ্ধা দেড় মাস ধরে হাসপাতালে, অথচ কেউ আসেনি দেখতে। মৃত্যুর পর ছেলেমেয়েরাও আসল না। তাই আমরা দাফনের দায়িত্ব নেই।’ শনিবার মধ্যরাতে হাসপাতালের মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে ফুলবাড়ী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয় ফাতেমাকে। আরো পড়ুন: রেডিওতে শুনে শুনে

কোরাআনের হাফেজ হলেন ফিলিস্তিনের মরু রাখাল সালামাহ আলি সালামাহ আলি ফিলিস্তিনের মরুভূমিতে বাস করেন। তিন একজন মরু রাখাল। মরুর বুকে ছাগল চড়িয়ে বেড়ান। আর এই ছাগল চড়াতে চড়াতে রেডিওতে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত শুনতেন এদিকে কয়েক বছর যাবৎ এভাবে রেডিও শুনে শুনে

পবিত্র কোরআনের হেফজ সম্পন্ন করেছেন সালামাহ। বয়স ৬০ পেরোলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পবিত্র কোরআন আত্মস্থ করেছেন তিনি। সে ঘটনা জানুন তার নিজের বর্ণনায়। এ ব্যাপারে আলহাজ সালামাহ বলেন, ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় পবিত্র কোরআন হেফজ শুরু করার চার বছর পর তা সমাপ্ত হয়। কারণ আমাদের এলাকায় কোনো হাফেজ কিংবা

হেফজখানা নেই। হেফজের সময় পেছনের পাঠ পুনরায় পড়া খুবই জরুরি। নতুবা পঠিত সবকিছু ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে রেডিওতে কোরআন শোনার ব্যবস্থা আমাকে অনেক বেশি সহায়তা করে। রেডিওতে কোরআন তেলাওয়াতের সময় সম্পর্কে আমি জানতাম তখন আমিও তাদের সঙ্গে শুনে শুনে কোরআন পাঠ করতাম। এভাবে তা শুনতে শুনতে আমার বিশুদ্ধ কোরআন

তেলাওয়াত শেখা হয়ে যায়। তার ভাষায়, আমি মূলত নিজের ছাগল চড়ানোর সময় রেডিওতে কোরআন তেলাওয়াত শুনতাম। এভাবে আমি তাজবিদের সব রীতি-নীতি আয়ত্ত করি। ফলে অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও সুন্দরভাবে কোরআন পড়া শিখে ফেলি। তিনি আরও বলেন, অধ্যয়নের প্রতি নিজের প্রবল আগ্রহ কোরআন হেফজের ক্ষেত্রে আমাকে সহায়তা করেছে। ছাগল চরানোর সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ভিন্ন এক জগতে চলে যাই আমি। আমার এখন ষাট বছর। কিন্তু আমি এখনও পবিত্র

কোরআন বার বার পড়তে থাকি। সালামাহ বলেন, আমি মরুভূমিতে বাস করি, যেখানে কোনো হেফজখানা বা হাফেজ বলতে কিছুই নেই। তদুপরি কোরআন হেফজের ক্ষেত্রে ‘নিঃসঙ্গতা ও অফুরন্ত অবসর সময়’ আমাকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে। সর্বোপরি মহান আল্লাহর সার্বিক সহায়তা তো আছেই।

সূত্র : ডেইলি সাবাহ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close