খেলাধুলা

মাহমুদউল্লাহর এ কীর্তি কখনো দেখেনি ক্রিকেট

মাহমুদউল্লাহ শেষ ম্যাচে দেড় শ রান করার তৃপ্তি নিয়ে যেতে পারছেন। টেস্টে নিজের শেষ ম্যাচে অন্তত দেড় শ রানের ইনিংস খেলার তৃপ্তি খুব বেশি ব্যাটসম্যান পাননি। চমকে দেওয়ার মতো খবর তো বটেই! কোচের তাঁকে মনে

ধরছিল না। তবু জিম্বাবুয়ে সিরিজে নির্বাচকদের আগ্রহ অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহকে দলে ফিরিয়েছে। একমাত্র টেস্টে দল যখন মহা বিপদে, তখন আটে নেমে অপরাজিত দেড় শ রানের এক ইনিংস খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। তাঁর সে ইনিংসই প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ

৪৬৮ রান তুলেছে। লিড পেয়েছে ১৯২ রানের। এরই মধ্যে টেস্টের তৃতীয় দিনে মাহমুদউল্লাহর অবসরের ঘোষণার খবর শোনা গিয়েছিল। সে আলোচনা সেদিন থেমে গেলেও আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন। বহুদিন টেস্ট দলের বাইরে থাকা মাহমুদউল্লাহ ফিরে নিজের ৫০তম টেস্ট খেলেই সাদা পোশাকের ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন। ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস

খেলা মাহমুদউল্লাহ তাই শেষ ম্যাচে দেড় শ রান করার তৃপ্তি নিয়ে যেতে পারছেন।
টেস্টে নিজের শেষ ম্যাচে অন্তত দেড় শ রানের ইনিংস খেলার তৃপ্তি খুব বেশি ব্যাটসম্যান পাননি। মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে এ ক্লাবের সদস্যসংখ্যা মাত্র ১০ জন। সর্বশেষ তিনটি ঘটনাতেই জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে নাইটওয়াচম্যান

জেসন গিলেস্পি শুধু রাত পার করেননি, একেবারে ডাবল সেঞ্চুরি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। কিন্তু নিজের আসল দায়িত্ব বোলিংয়ে ধার হারিয়ে ফেলার খেসারত দিয়ে অস্ট্রেলিয়া দল থেকে ছিটকে গেছেন এই ফাস্ট বোলার। অরবিন্দ ডি সিলভা অবশ্য নিজের কাজটা ঠিকভাবেই করেছিলেন। ২০০২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০৬ রান করেও ক্যারিয়ার লম্বা করতে পারেননি এই কিংবদন্তি।

কলম্বোর সেই ইনিংসই তাঁর শেষ ইনিংস হয়ে রয়েছে।
টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন স্যান্ডহাম। স্যান্ডহাম এরপর আর কখনো খেলেননি কোনো টেস্ট।
অবশ্য জফরি লেগের গল্পটাও এমন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে দেশে ফিরেছিলেন। দুর্দান্ত স্লিপ ফিল্ডার ছিলেন, তবু তাঁকে ডাকা হয়নি পরবর্তী কোনো টেস্টে।

পরের মৌসুমে কাউন্টিতে ফর্ম হারিয়ে ফেলার পর এ নিয়ে আর আলোচনার জন্মও দিতে পারেননি লেগে। টেস্ট ইতিহাসে নিজের শেষ ম্যাচে দেড় শ বা এর বেশি রান করার প্রথম ইনিংসটি তাঁরই। ১৯৩০ সালে তাঁর এই ঘটনার দেড় মাস পরই দ্বিতীয় ঘটনা। ১৯৩০ সালে মজার এক কাণ্ড ঘটেছিল। একই সঙ্গে

নিউজিল্যান্ড ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে দুটি দল পাঠিয়েছিল ইংল্যান্ড। ১১ জানুয়ারি দুটি ইংল্যান্ড দল দুই ভিন মহাদেশে তাই টেস্ট খেলার রেকর্ডও গড়েছিল। নিউজিল্যান্ড সফরের শেষ টেস্টে লেগের কীর্তি। ওদিকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে ইংলিশদের শেষ ম্যাচের কীর্তি অ্যান্ডি স্যান্ডহামের। টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি

করেছিলেন স্যান্ডহাম। কিংস্টোনে ৩২৫ রান করা স্যান্ডহামের সে ম্যাচ জন্ম দিয়েছিল কিংবদন্তি ‘কালো ব্র্যাডম্যানের’। জর্জ হেডলি নামক এক অবিস্মরণীয় ব্যাটসম্যানের সে ইনিংসের কারণেই হোক বা দুই ইংল্যান্ড দলের দুর্বলতমটিতে খেলার কারণে, স্যান্ডহাম এরপর আর কখনো খেলেননি কোনো টেস্ট। এগুলো সবই না জেনে শেষ টানা ব্যাটসম্যানদের কিংবা নির্বাচকদের অবহেলার

শিকার বলে চালিয়ে দেওয়া যেত। কিন্তু বিল পন্সফোর্ড এর বাইরে। ১৯৩৪ অ্যাশেজে নিজেকে প্রমাণ করতেই গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডে। নিজের শেষ ইনিংসে ২৬৬ রান করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকেই সরে গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি। একে একে এই তালিকায় যোগ দিয়েছে মরিস লেলান্ড, সিমুর নার্স, বিজয় মার্চেন্ট ও গ্রেগ চ্যাপেলদের মতো নাম। সেখানে এখন স্থান পাবেন মাহমুদউল্লাহ।

এক দিক থেকে অনন্য মাহমুদউল্লাহ। এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৯ জন ক্রিকেটার টেস্ট খেলার স্বাদ পেয়েছেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেয়ে শুরু এবং দেড় শ রানের ইনিংস খেলে ক্যারিয়ার শেষ করতে পারেননি কেউ। যেমনটা আশা ছিল সেভাবে এগোয়নি টেস্ট ক্যারিয়ার, কিন্তু বিদায়বেলায় এ তৃপ্তি নিয়ে তো যেতে পারছেন মাহমুদউল্লাহ!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close