মানবাতা ও সমাজ

হৃ,দয়বিদারকঃ অপেক্ষায় জমজ সন্তান, মৃত্যুপথযাত্রী বা,বা

বাবাকে দেখে না প্রায় আড়াই মাস। বাবা ফয়সাল শি,কদারও প্রাণপ্রিয় দুই জমজ সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরতে ব্যাকুল। কিন্তু সন্তানদের কাছে ফিরে আসতে পারবেন কি-না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তার দুটি

কি,ড,নি,ই নষ্ট হয়ে গেছে। আড়াই মাস ধরে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার হীরাপুর শিকদার বাড়ির ছেলে ফয়সাল শিকদার (৩০)। তার বাবা হুমায়ুন কবির শিকদার আইনজীবীর সহকারী।

চার বোনের মধ্যে মেজ ফয়সাল। ৩০ বছরের টগবগে এক যুবক। অন্য সবার মতো তারও ছি,ল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। ফয়সালের ইচ্ছা ছিল বড় উকিল হবেন। ২০১৬ সালে এলএলবি পাস করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। আজ তিনি

মৃত্যুপথযাত্রী। ২০১৮ সালে বিয়ে করেন ফয়সাল শি,কদার। বিয়ের দুই বছর পর জমজ সন্তান জন্মগ্রহণ করে। ২০২০ সালের শেষ দিকে ফয়সাল অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জা,না,ন, তার দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। শুরু হয় কিডনির চিকিৎসা। রাজধানীর একাধিক হা,সপাতালে

চিকিৎসা চলাকালীন চিকিৎসকরা ফ,য়সালের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি শতভাগ নি,শ্চি,ত করেন। চিকিৎসকরা আরও জানান, তাকে বেঁচে থাকতে হলে প্রতিনিয়ত কিডনি ডায়ালাইসিস করতে হবে এবং অন্তত একটি কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কোনো উপায় না দেখে ফয়সালের পৈতৃক জমি (প্রায় ৫৯ শতাংশ) বিক্রি করা হয় ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকায়।

এর মধ্যে দেশে কিডনি চিকিৎসায় ব্যয় হয় প্রায় ১০ লাখ টাকা। পরে তার আত্মীয়স্বজনরা প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো ব্যবস্থা করে দেন। পরিবারের আরও কিছু টাকা নিয়ে গত ৩ মার্চ কলকাতায় চিকিৎসার জন্য পাড়ি জমান ফয়সাল। দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফ,য়সাল। সেখানে নিয়মমাফিক তার কিডনির ডায়ালাইসিস চলছে। সেখানে ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন প্রস্তুতি চলছে তার একটি কিডনি ট্রা,ন্সপ্লান্ট করার। এজন্য জরুরিভাবে প্রয়োজন প্রায় ২৫

লাখ টাকা। ফয়সাল সিকদার বলেন, ‘কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে ডোনারের ব্য,ব,স্থা করা গেছে। কিন্তু এই ট্রান্সপ্লান্টের জন্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। আমাদের হাতে মাত্র ১০ লাখ টাকা আছে। আরও ১৫ লাখ টাকার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি বাংলাদেশ সরকার আমার পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের এই হাসপাতালটিকে ডিও লেটার পাঠায়, তাহলে আমার চিকিৎসা ব্যয় অর্ধেক হয়ে যাবে। আমি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বন্ধু-

বান্ধব, আ,ত্মী,য়-স্বজনসহ সকল স্তরের মানুষের কাছে আবেদন জানাই, আপনারা আমার পাশে দাঁড়ান। আমি যেন পুনরায় আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিবার ও আমার দুই শিশুসন্তানকে দেখি না অনেক দিন। খুব মনে পড়ে মা-বাবা ও সন্তানকে। কিন্তু কিছুই করার নেই। দোয়া করি আমার এ রোগ যেন কাউকে আল্লাহ না দেন। যদি আমি চলার পথে কারও স,ঙ্গে কোনো অপরাধ করে থাকি তাহলে

আমাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন।’ ভারতে চিকিৎসাধীন ফয়সাল শিকদারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা যাবে +৯১৯৮৭৪৮৬২০৭৮ নম্বরে। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- মোছা. জোসনা শিকদার, এ/সি-২০৫০০১৮০২০০৯৩৭৯০৬, ইসলামী ব্যাংক, আখাউড়া শাখা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close