জাতীয়

ফেঁসে যাচ্ছেন ২২ জেলার দেড় শতাধিক কর্মকর্তা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার বিতরণে অনিয়ম, অবহেলা ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এ অনিয়ম,

অবহেলা ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সারা দেশে ভ‚মি ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২ পরিবারকে বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। গত বছর বিতরণ কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় সোয়া

লাখ উপকারভোগীকে ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব ঘরের বিষয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতির কথা উঠে এলে সে বিষয়ে তদন্তে নামেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তদন্তে দেশের ২২ জেলার ৩৬টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) উপজেলা সহকারী ভ‚মি (এসিল্যান্ড), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও),

উপজেলা প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। প্রকল্পের অধীনে ভ‚মিহীনদের ঘর নির্মাণ নিয়ে অনিয়মের এ ঘটনায় সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসকরা তদন্ত কমিটি করেছেন। সে সঙ্গে সব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিদর্শন দলের সদস্যরা।

এ প্রতিবেদনে ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও কর্মকর্তাদের অবহেলার তথ্য উঠে এসেছে। তারই ভিত্তিতে ইউএনও ও এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পাঁচজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। এটা মাত্র শুরু। তদন্তে দেড় শতাধিক কর্মকর্তার নাম এসেছে। পর্যায়ক্রমে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে। দেশের একটি মানুষও গৃহহীন বা ভ‚মিহীন থাকবে না গত ২০২০ সালের ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার এই মহান

উদ্যোগকে সামনে রেখেই মুজিববর্ষে প্রতিটি গৃহহীন-ভ‚মিহীন পরিবারই পাচ্ছে দুর্যোগ সহনীয় সেমিপাকা ঘর, আর দুই শতাংশ জমির মালিকানা। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুই শতক জমির মালিকানাসহ সুদৃশ্য রঙিন টিনশেডের সেমিপাকা বাড়ি পাবেন গৃহহীন ও ভ‚মিহীনরা। সারা দেশে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের এই মহাযজ্ঞ প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রকল্পটিতে পৃথকভাবে কোনো অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে সরকারের

বিভিন্ন উদ্যোগকে সমন্বিত করে ঘর বানিয়ে দেয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কাজটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) নেতৃত্বাধীন একটি কমিটিকে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন উপজেলা প্রকৌশলী, এসিল্যান্ড, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এদিকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতেএ রিপোর্টটি করা হয়। সৈয়দপুর (নীলফামারী) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায়

নীলফামারীর সৈয়দপুরে দ্বিতীয় দফায় নির্মিত ঘরের দেয়ালে ও বারান্দার পিলারে ফাটল ধরেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পড়ছে পানি। টিনের ছাউনিতে ব্যবহার করা হয় নিম্নমানের কাঠ। এখনই গ্রীলের দরজা-জানালার পাল্লাগুলো খুলে খুলে পড়ছে। আর ৫১টি ঘরের বেশিরভাগ ঘরেরই গ্রীলের দরজা-জানালা ঠিকভাবে আটকানো যায় না। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস
করছে সুবিধাভোগী পরিবারগুলো। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় মোট ৯৪টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফা ৩৪টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। যা ইতোমধ্যে সুবিধাভোগীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সব ঘরে সুবিধাভোগীরা পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাসও করছেন। প্রথম দফায় নির্মিত প্রতিটি ঘরের জন্য ব্যয় বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার এবং দ্বিতীয় দফা ৬০টি ঘরের প্রতিটির জন্য নির্মাণ ব্যয়

ধরা ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা। প্রথম দফায় নির্মিত ঘরগুলো নির্মাণে তেমন কোনো বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়নি। কিন্তু বিপত্তি ঘটে আশ্রয়ণ প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় ৬০টি ঘর নির্মাণ কাজে। এতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে।
উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মাণের দুই-তিন মাস যেতে না যেতে সে সব ঘরের দেয়ালে ও বারান্দার পিলারে ফাটল ধরেছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৫ নম্বর ঘরের সুবিধাভোগী শেফালি খাতুন তার ঘরের বারান্দার পিলারের ফাটল দেখিয়ে দিয়ে অভিযোগ করে বলেন,

এখনই যদি এ অবস্থা হয়, তবে বাকি দিনগুলো আমি স্বামী সন্তান নিয়ে কিভাবে এ সব ঘরে বসবাস করব। এ রকম ঘরের দেয়ালে ও পিলারে ফাটল ধরেছে সুমী নামের সুবিধাভোগীর ৫১ নম্বর ঘরেও। সামান্য বৃষ্টিতে পানি পড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগী এমদাদুল হকের ৪৯ নম্বর ঘরসহ অনেকের ঘরেই বৃষ্টি পানি পড়ে।

তাই বৃষ্টি পানি থেকে ঘরের জিনিসপত্র রক্ষায় অনেককে পলিথিন ব্যবহার করতে দেখা যায়। ৩৩ নম্বর ঘরের বাসিন্দা মো. ইসহাক বলেন, ঘরের প্রধান দরজাটি লাগানো যায় না। তাই বাধ্য হয়ে সামনে থেকে ঘরের প্রধান দরজা তালাবদ্ধ করে পেছনে দরজা দিয়ে ঘরে থাকতে হচ্ছে।

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধিনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত¡াবধানে আশ্রয়ণ প্রকল্প মাটি ভরাটের কাজ হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close