শিক্ষাঈন

প্রস্তুতি শেষ; শিগগিরই এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার বিকল্প পদ্ধতি

কখন বা কবে হবে এসএসসি-এইচএসসির ফাইনাল পরীক্ষা এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে আগ্রহের কমতি ছিলো না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও যেনো তোড়জোড়ের কোনো অভাব ছিলো না। তাই একেরপর এক মাধ্যমিক

ও উচ্চমাধ্যমিক স্থরের পরীক্ষা নিয়ে দিতে হয়েছে নতুন নতুন সিদ্ধান্ত। আর এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে যেনো রীতিমতো থমকে যাওয়ার অবস্থা দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
কিন্তু এদিকে করোনা সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি সেদিকেও নজর রাখতে হবে। এই করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই নতুন

কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে চাচ্ছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে পরীক্ষার্থীদের গতবারের মতো অটোপাস দেয়া হবে না এটি নিশ্চিত। অটোপাস না হলে পরীক্ষা হবে কোন পদ্ধতিতে সে পথই খুঁজছে মন্ত্রণালয়। এরজন্য তাকিয়ে থাকতে হবে জুলাই মাসের করোনা পরিস্থিতির দিকে। চলতি মাসে করোনা পরিস্থিতি উন্নতি

না হলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ঈদুল আজহার পরই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দিবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারের নীতি নির্ধারকরা বলছেন, সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে না নামলে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো ঝুঁকিতে তারা যাবে না। এ অবস্থায় চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসির পরীক্ষা স্বাভাবিক এবং সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেয়া সম্ভব নয়। তবে এবার এই দুটি পাবলিক পরীক্ষার না নিতে পারলেও বিকল্প পদ্ধতিতে গ্রেড দেয়া হবে। এসব বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন জানালেন, আমাদের এখনো করোনা পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। সংক্রমণের হার কমছে না বাড়ছে সেসব নিয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই আপাতত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাচ্ছে না। যত বিকল্প পদ্ধতি আছে সেগুলোর প্রস্তুতি শেষ করে রাখছি। যখন যেটা প্রয়োগ করা যায়, সেটাই বাস্তবায়ন করা হবে। বিকল্প কী কী প্রস্তুতি নিচ্ছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এজন্য শিক্ষাবোর্ড ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করা হয়েছে। তারাই পরীক্ষার বিকল্প মতামত দেবেন। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, মূল্যায়ন করেই শিক্ষার্থীদের গ্রেড দেয়া হবে। সেজন্য যত রকম বিকল্প আছে সবগুলো নিয়েই বিশ্লেষণ চলছে।

জানা গেছে, কমিটির একাধিক প্রস্তাব আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, রচনামূলক বা সৃজনশীল প্রশ্ন (সিকিউ) বাদ দিয়ে কেবল বহু নির্বাচনী প্রশ্নে (এমসিকিউ) পরীক্ষা নেয়া। বিষয় ও পূর্ণমান (পরীক্ষার মোট নম্বর) কমিয়ে পরীক্ষা নেয়া। এক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ের দুই পত্র একটিতে একীভূত করা। পাশাপাশি ২০০ নম্বরের স্থলে ১০০ নম্বরে পরীক্ষা নেয়া হবে। কিন্তু এই উভয় ক্ষেত্রেই করোনা পরিস্থিতির উন্নতি জরুরি। অর্থাৎ সংক্রমণ ১০ শতাংশের নিচে নেমে এলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে পরীক্ষা নেয়া হবে। আর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে কেন্দ্রের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করে

এই পরীক্ষা নেয়া হবে। এরইমধ্যে আরো একটি দিক ছড়িয়ে পড়েছে। সেটি হচ্ছে, আগের ফল এবং অ্যাসাইনমেন্টের মূল্যায়নের ওপর এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থীদের গ্রেড দেয়া।
এর মধ্যে এসএসসির সম্পর্কে বলা হচ্ছে, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলের ৫০ শতাংশ এবং অ্যাসাইনমেন্টের ৫০ শতাংশ ফলাফল নিয়ে ফল প্রস্তুত করা হতে পারে। আর এইচএসসির ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, শিক্ষার্থীর এসএসসির

ফলের ৫০ শতাংশ, জেএসসির ২৫ শতাংশ এবং অ্যাসাইনমেন্টের ফলের ২৫ শতাংশ সমন্বয় করে ফল প্রস্তুত করা হতে পারে।
এদিকে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে সম্মত নয় আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নেহাল আহমেদ। তিনি জানালেন অনলাইনে পরীক্ষা না নিয়ে শিক্ষার্থীদের কিভাবে মূল্যায়ন করা সেই পন্থা বের করতে কাজ দেয়া হয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটিকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close