আলোচিত বাংলাদেশ

ট্যাবলেট-ইনজেকশন ছাড়াই আখাউড়ার টাইগার ২৭ মণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের ধাতুর পহেলা গ্রামের প্রবাসী মো. রফিক সরকার (মিন্টু মিয়া) তার খামারে অতি যত্ম করে ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় (গরু) লালন পালন করছেন। আদর করে ওই ষাঁড়টির

(গরু) নাম রেখেছেন আখাউড়ার টাইগার। গত বছর কোরবানির ঈদে বাজারে তুলে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় টাইগারকে তিনি বিক্রি করতে পারেননি। তাই এবার কোরবানির ঈদে এ ষাঁড়টি বিক্রি করতে দাম হাঁকিয়েছেন ১০ লাখ টাকা। ষাঁড়টি শান্ত প্রকৃতির কালো সাদা ঝকঝকে তার শরীর। সময়ের সঙ্গে তার আকৃতি

বেড়ে উঠা স্বভাবও যেন টাইগারের মতোই। এ টাইগারের ওজন ২৭ মণ। দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফুট ও উচ্চতা ৫ ফুট। ষাঁড়টির বয়স ৪ বছর। উপজেলার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ষাঁড় বলে দাবি খামার মালিক প্রবাসী মো. রফিক সরকার মিন্টু মিয়াা। এরই মধ্যে এ গরুটি এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। টাইগারকে নিয়ে এক প্রকার

মাতোয়ারা স্থানীয়রা। এলাকার পাড়া-মহাল্লায়, দোকান-পাটে এখন এ গরুটি নিয়ে চলছে আলোচনা। এ ষাঁড়টি (গরু) দেখতে বিভিন্ন এলাকার লোকজন প্রতিদিন তার বাড়িতে ভিড় করছেন। সেইসঙ্গে অনেকেই সেলফি তুলতে দেখা যায়। জানা যায়, ধাতুর পহেলার কুসুমবাড়ি এলাকায় নাইনা খামার নামে একটি খামার গড়ে তুলেন প্রবাসী রফিকুল ইসলাম মিন্টু মিয়া। আজ থেকে ৪ বছর আগে

তার খামারে থাকা ফ্রিজিয়ান জাতের গাভি এই বাছুরটিকে জন্ম দেন। তখন থেকে খুব যত্ম সহকারে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন পালন শুরু করা হয়। নিয়মিত খাবার আর পরিচর্যা করার ফলে তার আকৃতিও বাড়তে থাকে। দিনে দিনে এ গরুটির ওজন বেড়ে ১১০০ কেজি বা ২৭ মণে এসে দাঁড়ায়। তাছাড়া বিশাল আকারে গড়ে উঠা এই খামারে টাইগার ছাড়াও উন্নত জাতের আরো ৪০টি গরু

রয়েছে। এরমধ্যে গাভি ৩০টি ও ষাঁড় ১০টি রয়েছে। গাভি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ লিটারের উপর দুধ বিক্রি করছেন। তার খামারে থাকা গরুগুলোকে কোনো প্রকার ক্ষতিকর ওষুধ এবং খাবার ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে খাবার খাইয়ে লালন পালন করছেন। সরেজমিনে কুসুমবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, টাইগারের পাশপাশি অন্যান্য গরুগুলোকে অতি যত্ম সহকারে গরুগুলোকে

লালন পালন করা হচ্ছে। সকাল বিকাল রাতে টাইগারকে অতিরিক্ত যত্ম নিচ্ছেন। তবে এ উপজেলায় এখন পযর্ন্ত এটাই হলো সব চাইতে বড় গরু। খামার মালিকের ছোট ভাই ও মোগড়া ইউপি সদস্য মো. আব্দুল আওয়াল সরকার বলেন, কোনো প্রকার ক্ষতিকর ট্যাবলেট ও ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে খড়, জার্মানি তাজা ঘাস, খৈল ভুসি, চালের কুড়া, ভুট্টা,ভা তসহ পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে গরুটিকে লালন পালন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ষাঁড়টি দেখতে ভিড় করছেন আশপাশের মানুষজন।

এর মধ্যে অনেক ক্রেতাই গরুটি কিনতে এসেছেন। কিন্তু দাম দর ঠিক না হওয়ায় এখনো গরুটি বিক্রি হয়নি। খামার পরিচর্যাকারী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নিয়মিত খাবার, গোসল করানো,পরিস্কার ঘরে রাখা, টাইগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা ও রুটিন অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেওয়াসহ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। খাবারসহ প্রতিদিন এই গরুটির পেছনে ৭০০ টাকার উপর খরচ হয় বলে তিনি জানায়। এ খামার দেখাশোনার জন্য ৫ জন লোক কাজ করছেন । ওই এলাকার মো. কাইয়ুম মিয়া বলেন,

প্রবাসী রফিকুল ইসলাম তার সন্তানের মতো যত্ম করে এ খামারটি গড়ে তুলেছেন। তার খামারে থাকা এত বড় গরু আমরা আগে কখনো এলাকায় দেখিনি। আশা করছি কোরবানির হাটে বিক্রিতে ভালো দাম পাবে। মোড়গা বাজার এলাকা থেকে দেখতে আসা মো. লিয়াকত হোসেন ও মো. ফারুক মিয়া বলেন, সচরাচর এমন গরু বাজারে দেখা যায় না। লোকমুখে টাইগারের কথা শুনে দেখতে এলাম। বিশাল আকাড়ের ষাঁড় দেখে সত্যিই অবাক।

আখাউড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সার্জন ডা. কামাল বাশার বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা বিক্রেতা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অনলাইন প্ল্যাটফরম করছি যাতে সব ধরনের পশু সহজে অনলাইনে ছবি দেখে বিক্রি করা যায়। তাছাড়া এ উন্নত জাতের গরুটিকে লালন পালন করতে যখনই কোনো সমস্যায় পড়ছেন সার্বিকভাবে পরমর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close