খেলাধুলা

সাদিও একজন মুসলিম ফুটবলার! আমি ৭ বছর বয়সে গ্রামের মাঠে ফুটবল খেলছিলাম, আমার ভাই আমার কাছে দৌঁড়ে এসে বলল বাবা মারা গেছেন!প্রতিটি দরিদ্র এলাকায় আমি হাসপাতাল এবং মসজিদ তৈরি করব

সাদিও মানে (sadio mane), সেনেগালের তারকা ফুটবলার। লিভারপুলের হয়ে প্রতি সপ্তাহে আয় করেন কয়েক কোটি টাকা৷ এহেন ফুটবলারের কয়েকটি দামি গাড়ি, বাড়ি, হিরের গহনা থাকবে এতো খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

কিন্তু সাদিও মানে আলাদা। কিছুদিন আগেই তাকে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল ভাঙা আইফোন হাতে৷ এমনকি ফুটবল ম্যাচে দুরন্ত পারফর্ম করার পরও তাকে দেখা যায় মসজিদ পরিস্কার করতে। মানির বার্ষিক 7.8 মিলিয়ন বেতন পান৷ বেতনের তালিকায় তারকা

মোহাম্মদ সালাহ, ভার্জিল ভ্যান ডিজক এবং রবার্তো ফিরমিনোকে পিছনেই আছেন তিনি৷ কিন্তু এত উপার্জনের জন্য পৃথিবী মনে রাখবে না তাকে, তাকে যদি পৃথিবী মনে রাখে তবে তার দানের জন্যই। নিজেএ উপার্জনের বেশিরভাগটাই তিনি দান করেন গরীবের জন্য। ৭ বছর বয়সী মানে বেড়ে উঠেছিলেন

দারিদ্রের সাথে লড়াই করেই। তাই তিনি বোঝেন সম্পদের মূল্য। তার কথায়, “আমি কেন দশটি ফেরারি, 20 টি হীরার ঘড়ি বা দুটি প্লেন চাইব? এই জিনিসগুলি আমার এবং বিশ্বের জন্য কি করবে?” তিনি বলেন, “আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম, আমাকে মাঠে কাজ করতে হয়েছিল; আমি কঠিন সময়ে বেঁচেছি, খালি পায়ে

ফুটবল খেলতাম, আমার পড়াশোনা এবং অন্যান্য অনেক কিছুই ছিল না, তবে আজ আমি ফুটবলের জন্য যা উপার্জন করি তা দিয়ে আমি আমার মানুষকে সাহায্য করতে পারি” সাদিও নিজের উপার্জনের অনেকটাই ব্যায় করেন স্কুল, স্টেডিয়াম নির্মানে৷ গরীবদের খাবার, জামা, জুতো ও অর্থ দিয়েই সাহায্য করেন

তিনি। তিনি মনে করেন সম্পদ নয় দানের জন্যই বিশ্ব তাকে মনে রাখবে৷ সাদিও মানে’ – তিনি একজন মুসলিম ফুটবলার! তিনি বলেন, আমি ৭ বছর বয়সে গ্রামের মাঠে ফুটবল খেলছিলাম, আমার ভাই আমার কাছে দৌঁড়ে এসে বলল বাবা মারা গেছেন! বাবার শুধু পেটে ব্যাথা ছিল যেহেতু আমাদের গ্রামে হাসপাতাল

ছিল না, তাই তাকে অন্য গ্রামে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হয়েছিল এবং সেখানেই তিনি মারা যান। তাই আমি নিয়ত করেছি যে সেনেগালের প্রতিটি দরিদ্র এলাকায় আমি হাসপাতাল এবং মসজিদ তৈরি করব। এবং তা অামি বাস্তবে রূপান্তিত করেছি। তার গ্রামে একটি মূল্যবান স্কুল তৈরি করেছিলেন £ ২৭০,০০০

দিয়ে। তিনি প্রতিটি পরিবারকে ৭০ ডলার করে দেয় এবং তার গ্রামের বাচ্চাদের জন্য বিনামূল্যে পোশাক সরবরাহ করে দিয়েছেন। এখন তিনি সেনেগালের করো’না ভা’ইরাস লড়াইয়ে জাতীয় কমিটিতে ৪৫,০০০ ডলার অনুদান দিয়েছেন। তিনি তার আয় থেকে বেশিরভাগ সময় দরিদ্র পরিবারগুলির সাথে তাদের উৎসাহিত করতে ব্যয় করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close