ইসলাম ধর্ম

মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানী

ইস’লাম শিক্ষা দেয় যে আল্লাহ দয়ালু, করুনাময়, এক ও অদ্বিতীয়। ইস’লাম মানব জাতিকে সঠিক পথ দেখায়। ইস’লামী বিশ্বা’স অনুসারে, আদম ‘হতে শুরু করে আল্লাহ্ প্রেরিত সকল নবী ইস’লামের বাণীই প্রচার করে গেছেন।

যুগে যুগে বহু মানুষ ভিন্ন ধ’র্ম থেকে ইস’লাম গ্রহন করেছেন ব্যক্তিগত পড়াশোনায় ইস’লামের সন্ধান : চিকিৎসক ও পদার্থবিদ স্যার টমাস লডার ব্রুন্টন ১৮৪৪ সালে স্কটল্যান্ডের রক্সবার্গে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেন ইউনিভা’র্সিটি অব এডিনবার্গে ‘ফার্মাকোলজি’ বিভাগে এবং সেন্ট বার্থলোমিউজ

হাসপাতা’লে কর্মজীবন শুরু করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯০০ সালে রানি ভিক্টোরিয়া ক’র্তৃক সম্মানজনক ‘নাইটহুট’ এবং ১৯০৮ সালে সম্মানজনক ‘বেরনট’ খেতাব লাভ করেন। ‘এনজিনা পেকটোরিজ’-এর চিকিৎসায় ‘এমেল নাইট্রিট’-এর ব্যবহার চিকিৎসা শাস্ত্রে সবচেয়ে বড় অবদান বলে মনে করা

হয়। ধ’র্মতত্ত্ব বি’ষয়ে তার ব্যক্তিগত উৎসাহ ও গবেষণার পথ ধরে ইস’লামের সন্ধান পান এবং মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা তাকে ইস’লামগ্রহণে উদ্বুদ্ব করে। মু’সলিম হওয়ার স্যার জালালুদ্দিন লডার ব্রুন্টন নামধারণ করেন। ধ’র্মতত্ত্বের প্রতি প্রবল আগ্রহ : আমি খ্রিস্টান মা-বাবার প্রভাবেই প্রতিপালিত হই। অল্প বয়সেই ধ’র্মতত্ত্বের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি। আমি চার্চ অব

ইংল্যান্ডের সঙ্গে যু’ক্ত ছিলাম। অনিয়মিতভাবে মিশনারিতে কাজ করতেও ইচ্ছুক ছিলাম। কয়েক বছর আগে আমি ‘চিরন্তন ব্যথা’ মতবাদের প্রতি মনোযোগী হই। যার মূলকথা হলো সীমিতসংখ্যক মানুষ ছাড়া পৃথিবীর সব মানুষ ব্যথিত। এ মতবাদ আমা’র কাছে ঘৃণ্য হয়ে উঠেছিল এবং আমি সংশয়বাদী হয়ে উঠেছিলাম। আমা’র যু’ক্তি ছিল স্র’ষ্টা নিজের শক্তি ব্যবহার করে মানুষ সৃ’ষ্টি করেছেন এবং আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন যে তারা

চিরদিন ব্যথিত হবে; জ্ঞানী, ন্যায়পরায়ণ ও প্রে’মময় হবে না। তাঁর এই অবস্থান বহু মানুষের চেয়ে নিচুমানের। এরপর নিজেকে প্রশান্ত করতে আমি অন্য ধ’র্মগু’লো পর্যালোচনা করার সি’দ্ধান্ত নিই। স্র’ষ্টা আনুগত্যের তীব্র ইচ্ছা : আমা’র ভেতর ইবাদত ও প্রকৃত স্র’ষ্টার আনুগত্যের ইচ্ছা প্রবল হয়ে ওঠে। খ্রিস্টধ’র্মের অনুসারীরা বলে আম’রা বাইবেলের অনুসারী। কিন্তু অনুসন্ধান করে দেখি তাদের দাবি বাস্তবতাবিরোধী। আমা’র ভেতর প্রশ্ন জাগল—এটা কি সম্ভব বাইবেল ও যিশুখ্রিস্টের শিক্ষাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে? সুতরাং গভীর মনোযোগসহ বাইবেল পাঠ শুরু

করলাম। অধ্যয়নের পর বুঝলাম আমা’র আরো জানার প্রয়োজন আছে। আমি সত্য জানতে এবং নিজেকে মূল্যবান মুক্তায় পরিণত করতে ইস’লাম অধ্যয়ন শুরু করি। ইস’লামে এমন কিছু বি’ষয় আছে, যা আমাকে সে সময় আকর্ষণ করছিল। মুহাম্ম’দ (সা.)-এর জীবনী পাঠ : অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে নবী মুহাম্ম’দ (সা.)-এর জীবনী পাঠ করি। আগে আমি তাঁর স’ম্পর্কে খুব সামান্যই জানতাম। কিন্তু এটা জানতাম যে খ্রিস্টানরা আরবের এই নবীর নিন্দা করে। আমি সেসব নিন্দা পেছনে ফেলে নিরপেক্ষভাবে তাঁর জীবনী পাঠ করলাম। কিছুটা পাঠের পরই বুঝতে পারলাম

মহান স্র’ষ্টা ও চিরন্তন সত্য স’ম্পর্কে তিনি যা বলেছেন তাতে স’ন্দে’হ করার কোনো অবকাশ নেই। তিনি মানবতার পক্ষে যে অবদান রাখেন, তার পরও তাঁর সমালোচনা চরম অন্যায়। যেসব মানুষ ছিল মূর্তির উপাসনাকারী, অ’প’রাধের মধ্যে বেঁচে থাকত, নোং’রামি উল’ঙ্গপনা ও অ’শ্লী’লতায় ম’গ্ন ছিল, তিনি তাদের কাপড় পরিয়েছেন, তাদের পরিচ্ছন্নতা শিখিয়েছেন, তাদের

ব্যক্তিত্ববান, আত্মম’র্যাদাসম্পন্ন ও অ’তিথিপরায়ণ করেছেন এবং তাদের মূর্তিগু’লো ধ্বং’স করে তাদের একমাত্র আল্লাহর সন্ধান দিয়েছেন। ফলে ইস’লাম ধ’র্মান্তরিত মানুষের সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close