অন্যান্য

পৃথিবীর সবচাইতে দামি গাছ হল এটি, ১ কাঠা জমিতে চাষ করলেই হয়ে যাবেন কোটিপতি!

ভারত হল একটি কৃষিনির্ভর (Farming) দেশ একথা তো অনেকবারই শুনেছেন। তবে এই কথাটি কিন্তু যথার্থ কারণ, আমাদের দেশের জনসংখ্যার একটা বিশাল অংশ চাষাবাদের সাথে যুক্ত। ধান, গম থেকে শুরু

করে নানান ফসল উৎপাদিত হয় আমাদের দেশ ভারতবর্ষে। তবে জানেন কি এমন একটি গাছের চাষও আমাদের দেশে হয় যেটা পৃথিবীর সবচাইতে দামি গাছ। যদি জানতে চান কতটা দামি তাহলে বলতে হবে আপনি যদি এই গাছ ১ কাটা জমিতে চাষ

করেন তাহলেই কোটিপতি হয়ে যেতে পারবেন। কি ভাবছেন? কি এমন গাছ, যা চাষ করলে কোটি টাকা উপার্জন করা যেতে পারে। তাহলে চলুন এবার সেই গাছ সন্মন্ধে বিস্তারিত জানা যাক। চন্দন কাঠের (Sandalwood) নাম শুনেছেন নিশ্চই। বাড়িতে

পুজোর সময় বা নানান শুভ অনুষ্ঠানে চন্দনের ফোঁটা দেবার জন্য এই চন্দন কাঠ ঘষেই চন্দন তৈরী হয়। আর এই চন্দন গাছই হল পৃথিবীর সবচাইতে দামি গাছ।
আপনি যদি ১ একর জমিতে এই গাছ চাষ করেন তাহলে গাছটি পূর্নবয়স্ক হলে আপনি ৩০-৩২ কোটি টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারবেন। হরিয়ানার (Hariyana) এক কৃষক এক চাষের সাথে যুক্ত রয়েছেন। তার মতে চন্দন চাষ বেশ লাভজনক।

তবে এই গাছের চাষ সম্পর্কে খুব কম লোকেরই যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। চন্দন গাছ বিক্রির উপযুক্ত হতে মোট ১২ বছর সময় লাগে। আর কোনো ব্যক্তি যদি একটি গাছও চাষ করতে পারেন তাহলে কমপক্ষে ৫-৬ লক্ষ টাকা দাম পেয়ে যেতেই পারেন। আসুন চন্দন চাষ সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক। এই গাছের চাষে যেমন লাভ রয়েছে তেমনি এই গাছের চাষ কিন্তু বেশ খরচ

সাপেক্ষ। আপনি যদি একসাথে অনেক ছাড়া কিনতে পারেন তাহলে ৫০০টাকা প্রতি চারা দাম পড়বে। কিন্তু যদি এক দুটি কেনেন তাহলে আরো বেশি দাম পড়বে। এই গাছটি বিকৃত উপযুক্ত হতে মোট ১২ বছর সময় লাগে। প্রথম চার বছর গাছটিতে কোনো সুগন্ধই থাকে না। আর যেহেতু এই গাছ প্রচুর দামি তাই চুরির

হাত থেকেই বাঁচাতে হয় এই গাছকে। শুধু চন্দন গাছ চাষ করলেই হবে না, এর সাথে একটি হোস্ট গাছের চাষ করতে হয়। আর চাষের সময় দুটি গাছেরই সমান যত্ন নিতে হবে। হোস্ট একটি নষ্ট হলে চন্দন গাছটিও নষ্ট হয়ে যাবে। চন্দন গাছের চাষে খুব বেশি জলের প্রয়োজন হয় না। সুতরাং নিচু জমিতে বা যে জমিতে জল জমে সেখানে চন্দন গাছ চাষ করলে তা পচে যেতে পারে।

যে সমস্ত স্থানে তাপমাত্রা অত্যাধিক সেই সমস্ত জায়গায় চন্দন চাষ খুব একটা লাভ জনক নয় কারণ চন্দন মূলত ৫-৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত ভালো ভাবে বাড়ে কিন্তু উষ্ণতা বেশি বেড়ে গেলে চন্দনের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। চন্দন গাছ পূর্নবয়স্ক হলে অর্থাৎ ১২ বছর পরে ১৫-২০ কেজি চন্দন কাঠ তৈরী করে। যা বিক্রি করে আপনি ৫-৬ লক্ষ টাকা বা তারও অধিক উপার্জন করতে পারেন।
চন্দন গাছ আপনি চাষ করলেও আপনার বিদেশে রফতানি করার কোনো অধিকার নেই, আপনি সরকারকেই চন্দন কাঠ বিক্রি করতে পারবেন। শুধু মাত্র সরকারই চন্দন কাঠ রফতানি করতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close