ইসলাম ধর্ম

খোলা হলো পাগলা মসজিদের ৮ দানবাক্স, পাওয়া গেল ১২ বস্তা টাকা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের আটটি দানবাক্স খোলা হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মসজিদ কমিটির উপস্থিতিতে ব্যাপক নি’রাপ’ত্তা ব্যবস্থার মধ্যে এ বক্সগুলো খোলা হয়। এ আটটি

সি’ন্দুক থেকে প্রায় ১২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। টাকা ছাড়াও দান হিসেবে স্ব’র্ণাল’ঙ্কার পাওয়া গেছে। এখন চলছে টাকা গণনার কাজ। বস্তাগুলো থেকে টাকা ঢেলে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় চলছে গণনার কাজ। পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্সের দেড় শতাধিক

শিক্ষার্থী ও রুপালি ব্যাংকের কর্মকর্তারা টাকা গণনা করছেন সর্বশেষ গত ২৩ জানুয়ারি দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন সর্বোচ্চ দুই কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা পাওয়া যায়। এর আগে গত বছরের ২২ আগস্ট ছয় মাস সাত দিন পর দান দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন সেখানে এক কোটি ৭৪ লাখ ৮৩ হাজার

৭১ টাকা পাওয়া যায়। এসময় সেখানে ডিসির কার্যালয়ের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা ইয়াসমিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলহাস হোসেন সৌরভ, মো. ইব্রাহিম ও মো. উবায়দুর রহমান শাহেল উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, টাকা গণনা শেষ হতে বিকেল হয়ে যাবে। শেষ হলে হিসেব করে ব্যাংকে জমা রাখা হবে এ টাকা।

বর্তমানে কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ ভূমির ওপর এই মসজিদটি গড়ে উঠেছিল। এ মসজিদের প’রিধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্য।

মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি অত্যাধুনিক ধর্মীয় কমপ্লেক্স এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রসারিত হয়েছে মূল মসজিদ ভবনও।
ডিসিকে সভাপতি করে প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজনকে নিয়ে গঠিত কমিটি এ মসজিদটির ব্যবস্থাপনা ও দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। এরইমধ্যে দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয়

প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স নামকরণ করা হয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদটিকে ঘিরে চলছে ব্যাপক উন্নয়নযজ্ঞ। এ ছাড়া মসজিদের আয় থেকে বিভিন্ন সেবামূলক খাতে অর্থ সাহায্য করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাধারণত তিন মাস পর পর পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়। কিন্তু ম’হামা’রির কারণে বক্স খোলার সময়ের ব্যব’ধান

বাড়ানো হয়েছে। এবার চার মাস ২৬ দিন পর দানবাক্স খোলা হচ্ছে জানা যায়, প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ মসজিদটির দান সিন্দুকগুলোতে নগদ টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার দান করেন। এছাড়া গবাদিপশু, হাঁস-মুরগীসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্রও মসজিদটিতে দান করা হয়। গত বছর ক’রো’নাভা’ইরা’স

সং’ক্র’মণ শুরুর পর ল’কডা’উনের সময়ে মসজিদে মুসল্লিদের চলাচল সীমিত করে দেয়া হয় ও নারীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়া হয়। এ পরিস্থিতিতেও মসজিদে মানুষ দান অব্যাহত রাখেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close