ইসলামিক ওয়ার্ল্ড

ইসরাইল ও ইহুদীদের ধ্বংসের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের ভবিষ্যৎবাণীঃ

ইসরাইল ও ইহুদীদের ধ্বংসের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের ভবিষ্যৎবাণীঃ “আমি বনি ঈসরাইলকে কিতাবে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলাম তোমরা পৃথিবীতে দুই বার অবশ্যই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং ঔদ্ধত্য দেখাবে মারাত্মক ভাবে”।

(সূরা বনি ঈসরাইল, আয়াত নং-৪)
অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার হল, কোরআনের এই আয়াত নাজিল হওয়ার পূর্বে ইহুদীরা পৃথিবীতে দুইবার অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৭ সাল ও খ্রিস্টাব্দ ৭০ সালের পূর্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল । আর এই আয়াত নাজিল হওয়ার পরেও তারা দুইবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। প্রথমবার ইউরোপিয়ান ইহুদীরা (১৯৪৮-২০২৩ সাল ইনশাল্লাহ)

পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এবং দ্বিতীয় বার দাজ্জালের আবির্ভাবের সময়ে ইরানের ইস্ফাহান শহরের ৭০ হাজার ইহুদী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, যেখানে ২০১৬ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী তাদের সংখ্যা ২৫০০০ হয়ে গেছে ।লিংকঃ

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Persian_Jews
ইতিপূর্বে পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার কারনে, আল্লাহ তায়ালা ইহুদীদের কিভাবে ধ্বংস করেছিলেন সেই বর্ননাও পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন। ” অতঃপর যখন(বনি ঈসরাইলকে ধ্বংসের) প্রতিশ্রুত সেই প্রথম সময়টি এলো (খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৭ সালে) তখন আমি তোমাদের (বনি ঈসরাইলের) বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর যোদ্ধা বান্দাদেরকে (বখতে নাসরের নেতৃত্বে ব্যাবিলনীয়

বাহিনী) অতঃপর তারা প্রতিটি জনপদের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে পড়ল, এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল। অতঃপর আমি তোমাদের জন্যে তাদের বিরুদ্ধে পালা ঘুরিয়ে দিলাম, তোমাদেরকে ধনসম্পদ ও পুত্রসন্তান দ্বারা সাহায্য করলাম এবং তোমাদেরকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে একটা বিরাট বাহিনীতে পরিণত করলাম। তোমরা যদি ভালো কর, তবে নিজেদেরই ভালো করবে আর যদি মন্দ কর,

তা-ও নিজেদের জন্যেই। এরপর যখন (অবিচার অনাচারের) দ্বিতীয় সে সময়টি এলো (৭০ খ্রিস্টাব্দে) তখন অন্য বান্দাদেরকে প্রেরণ করলাম (সেনাপতি টাইটাসের নেতৃত্বে রোমান বাহিনী) , যাতে তোমাদের মুখমন্ডল বিকৃত করে দেয় আর (সুলাইমান আঃ নির্মিত) মসজিদে ঢুকে পড়ে যেমন প্রথমবার (তাদের পূর্বসূরিরা) ঢুকেছিল, এবং যেখানেই ঢুকে, সেখানেই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল

(সুরা বনী ইসরাইল, আয়াত নং ৫-৭)
দ্বিতীয়বার ধ্বংস হওয়ার পর অর্থাৎ ৭০ খ্রিস্টাব্দে বনী ইসরাইলের উপর জেরুজালেম শহর তাদের জন্য হারাম হয়ে যায় এবং তারা পুরো বিশ্বে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। “আর আমি তাদেরকে (ইহুদিদেরকে) বিভক্ত করে দিয়েছি বিভিন্ন দেশময় বিভিন্ন শ্রেণীতে “(সূরা আ’রাফ, আয়াত নং – ১৬৮)

এরপর আমি বনি ঈসরাইলকে বললাম, তোমরা (এবার) বসবাস করতে থাক। যখন আখিরাতের প্রতিশ্রুতির সময় আসবে, তখন তোমাদের একত্রিত করে নিয়ে আসব”।
(সূরা বনি ঈসরাইল, আয়াত নং – ১০৪)” আশা করা যায়, (তোমরা যদি আল্লাহকে মেনে চল তাহলে) তোমাদের রব

তোমাদের উপর রহম করবেন। কিন্তু তোমরা (ইহুদীরা) যদি পুনরায় (বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি) কর। আমিও আবার (তোমাদেরকে ধ্বংস) করব। আর আমি কাফেরদের জন্য জাহান্নামকে করেছি কয়েদখানা। (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত নং – ৮)
এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা ইহুদীদেরকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইহুদীরা যদি পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে আগের মত আবার ধ্বংস করবেন।

যেরকম ভাবে আগে দুইবার ধ্বংস করেছিলেন।যেমনটি খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৭ সালে এবং খ্রিস্টাব্দ ৭০ সালে ধ্বংস করেছিলেন।
অবশ্যই আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত ইহুদীদের উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন, যারা তাদেরকে (ইহুদীদের) নিকৃষ্ট শাস্তি প্রদান করতে থাকবে”। (সূরা আরাফ, আয়াত নং- ১৬৭)
সুবহানাল্লাহ!! আল্লাহ কতইনা সত্য কথা বলেছেন? মদিনাতে চুক্তি ভঙ্গ ও বিশ্বাসঘাতকতার কারনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বনু কুরাইজার সব পুরুষ ইহুদীদের হত্যা করেছিলেন এবং নারী ও শিশুদের দাসী হিসেবে সাহাবীদের মধ্যে বন্টন করেছিলেন। হযরত উমর (রাঃ)

ইহুদীদেরকে আরব উপদ্বীপ থেকে বের করে দিয়েছিলেন। এমনকি গত শতাব্দীতে জার্মানি ও অস্ট্রিয়াতে ইহুদীরা যখন মারাত্মক উৎপাত শুরু করে দিয়েছিল, ঠিক তখনই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে চরমভাবে শায়েস্তা করেছিলেন। কথিত আছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, হিটলার ৬০ লক্ষ ইহুদীকে হত্যা করেছিলেন।নএছাড়াও বর্তমানে যেহেতু তাদের উৎপাত আবার বেড়ে গেছে, মুসলমানদের উপর তাদের অত্যাচার, অবিচার, জুলুম নির্যাতন বেড়ে গেছে, খুব শীঘ্রই আল্লাহ তায়ালা আবার সুফিয়ানী ও খোরাসানের কালো পতাকাবাহী দলের মাধ্যমে তাদেরকে শায়েস্তা করবেন।

তথ্য সূত্রঃ http://islamicastrolgy.blogspot.com/2020/06/blog-post.html?m=1

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close