ইসলাম ধর্ম

কাবা শরিফের এই ‘সাদা জায়গায়’ ন’বী’জি না’মা’জ পড়েছিলেন!

পৃথিবীর বুকে প্রথম ম’স’জি’দ কাবা (মক্কা)!
পবিত্র কোরআনের তৃ’তী’য় সূরা আল ইমরানের ৯৬তম আয়াতে উল্লিখিত আ’ছে যে, ‘নিঃসন্দেহে মানুষের জন্য সর্বপ্রথম যে ইবাদত গৃহটি নি’র্মি’ত হয়, সেটি বাক্কায়

(মক্কায়) অবস্থিত। তাকে ক’ল্যা’ণ ও বরকত দান করা হয়েছিল এবং সমগ্র বি’শ্ব’বা’সী’র জন্য হেদায়েতের দিশারি (কেন্দ্রে) প’রি’ণ’ত করা হয়েছিল।’ আর এই পবিত্র গৃহ (কাবা) নি’র্মা’ণে’র তথ্য রয়েছে পবিত্র কোরআনের দ্বিতীয় সূরা

বা’কা’রা’র ১২৭ নম্বর আয়াতে, যেখানে বলা হ’য়ে’ছে হজরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর পুত্র হজরত ই’স’মা’ই’ল (আ.) কাবাগৃহের ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন। পরবর্তীতে যু’গে’র পরিক্রমায় তা অবিশ্বাসীদের দখলে চলে যা’য়। বিভ্রান্ত এই মানুষদের অন্ধকার থেকে আ’লো’র পথে আনার জন্যই পৃথিবীতে মহানবী

(সা.)-এর আ’গ’ম’ন ঘটে। তবে পরিপূর্ণভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা এবং মূ’র্তি’পূ’জা’র বদলে পবিত্র কাবাঘরে নামাজ আ’দা’য়ে’র প্রথা চালু করতে মহানবী (সা.)-কে অ’নে’ক ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হ’য়ে’ছে। ৬১০ সালে নবুয়ত লাভের পর থেকেই হজরত মু’হা’ম্ম’দ (সা.) মক্কাবাসীকে

ইসলামের দাওয়াত দি’তে থাকেন। কিন্তু বংশ পরম্পরায় মূর্তিপূজায় অভ্যস্ত ম’ক্কা’বা’সী তা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। বরং ম’হা’ন’বী (সা.)-এর কণ্ঠরোধ, একঘরে করে রাখা এ’ম’ন’কি তাঁকে হত্যার প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। ৬১৯ সালে ম’হা’ন’বী (সা.)

তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী ও অর্থনৈতিক ভি’ত্তি হিসেবে স্বীকৃত মা খাদিজা (রা.)-এর মৃত্যু ঘটে। এ’ক’ই বছর তিনি তাঁর আশ্রয়দাতা এবং এতিম জী’ব’নে’র অবলম্বন চাচা আবু তালিবকে হারান। ফলে হ’জ’র’ত মুহাম্মদ (সা.) নিজের নিরাপত্তা ও ইসলামের স্বা’র্থে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় শক্তি স’ঞ্চ’য় করে ৬২৯-৩০ সালের রমজান মাসে মক্কায় ফি’রে আসেন এবং

মক্কানগরী জয় করে পবিত্র কা’বা’ঘ’রে প্রবেশ করেন। কাবাঘর তখন দেব-দে’বী’র মূর্তি এবং চিত্রকলায় পরিপূর্ণ ছিল। মহানবী (সা.) তার প্রিয় উটে বসেই হাতের লাঠির সাহায্যে বেশ কি’ছু মূর্তি মাটিতে ফেলে দেন। মূর্তির অনেক শক্তি এবং মূ’র্তি’ই তাদের রক্ষাকারী বলে বিশ্বাস ছিল ম’ক্কা’বা’সী মূর্তি উপাসকদের। কিন্তু চোখের সামনে এসব মূর্তির মা’টি’তে লুটিয়ে পড়া এবং খন্ডবিখন্ড হয়ে যাওয়া দেখে সে বি’শ্বা’স নিমিষেই উবে যায়। অন্যদিকে সা’ধা’র’ণ ক্ষমা ও মুসলমানদের উদারতায় মুগ্ধ হয়ে

ম’ক্কা’বা’সী দলে দলে ইসলামের পতাকাতলে জড়ো হতে থা’কে। মহানবী (সা.) তাঁর প্রিয় সাহাবি হজরত বিলাল (রা.) এর মাধ্যমে কাবা চত্বরের মূল ঘরের চা’বি সংগ্রহ করেন এবং কাবার
ভিতরে থাকা এসব মূর্তি ও দে’ব-দেবীর ছবি অপসারণ করেন। জমজম কূপের প’বি’ত্র পানি দিয়ে কাবাঘরের ভিতর ও বাইরের দেয়ালে আঁ’কা সব ছবি ধুয়ে ফেলা এবং মুছে দেওয়া হয়। এ স’ম’য় জোহরের নামাজের সময় হলে হজরত বি’লা’ল (রা.) কাবাঘরের ওপর দাঁড়িয়ে তাঁর স্বভাবজাত আ’বে’গী ও সুরেলা কণ্ঠে উচ্চস্বরে আজান দেন। এই আজানের পর মহানবী (সা.) তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে কা’বা’ঘ’রে জোহরের নামাজ আদায় করেন। পরবর্তীতে তি’নি যতদিন মক্কায় ছিলেন, প্রায় ততদিনই কাবা চত্বরে না”মা”জ আদায় করেন। তাই কাবা আজ

‘বা’য়’তু’ল্লা’হ’ বা আল্লাহর ঘর এবং ‘মসজিদ আল হারাম’ বা প’বি’ত্র মসজিদ নামে সুপরিচিত এবং বিশ্বের স’ব’চে’য়ে বড় মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত। একাধিক হা’দি’স মতে, কাবা চত্বরে এক রাকাত নামাজ আদায় ক’র’লে অন্যত্র এক লাখ রাকাত নামাজ আদায়ের স’ও’য়া’ব লাভ করা যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close