রাজনীতি

কওমী শিক্ষার্থীদের’কে ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, নারীবিদ্বেষী’ করা হচ্ছে: “শিক্ষামন্ত্রী”

কওমী মাদরাসাগুলোর শিক্ষার্থীদের ‘জাতিবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, নারীবিদ্বেষী’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, আমরা যখন কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন, ২০১০ সালের

শিক্ষানীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করছি, তখন কওমী মাদরাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের জাতিবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী নারীবিদ্বেষী গুজবের কারখানা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চূড়ান্ত অপব্যবহার করছে স্বাধীনতাবিরোধী

মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। সোমবার (৩ মে) ‘সকল কওমী মাদরাসা সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে’- প্রতিপাদ্যে আয়োজিত একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এক ওয়েবিনারে তিনি এসব কথা বলেন বলে নির্মূল কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা একমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক শিক্ষাব্যবস্থার চিন্তা দেখতে পাই। কিন্তু সেই শিক্ষাভাবনা নিয়ে আমরা আর এগোতে পারিনি। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধী, একাত্তরের পরাজিত মৌলবাদী গোষ্ঠীর রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে দেশব্যাপী

সাম্প্রদায়িক শিক্ষার বিস্তার করে। দীপু মনি বলেন, এই মুহূর্তে একবারে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা সম্ভব নয়। কিন্তু সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছি, একটি দেশের মধ্যে যেন দুটো জাতি গড়ে না ওঠে।
যে মূল্যবোধের কারণে বাঙালি হিসেবে আমরা গর্ব করি, সেই

অসাম্প্রদায়িক মানবিকতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা শিক্ষা আইন ও শিক্ষানীতি প্রণয়ন করছি। তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীকে মূলধারায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। মানুষ শুধু দারিদ্র্যের কারণে নয়, ধর্মের কারণেও সন্তানকে কওমী মাদরাসায় ভর্তি

করেন। এই বাস্তবতাও আমাদের বুঝতে হবে। আমাদের সবার দায়িত্ব সমাজে সচেতনতার ক্ষেত্র তৈরি করা। মাদরাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষা না জিহাদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে- সে সম্পর্কে বাবা-মাকে জানাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা

জননেত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই যথাসময়ের যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাংলাদেশকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দেবেন। সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close