অন্যান্য

এক অন্ধ হরিণ ও ১০ বছরের বালকের হৃদয়বিদারক গল্প

যদি ভাবেন যে এটা ১০ বছর বয়সী এক ছে’লের গল্প, যে কি না একটা অন্ধ হরিণের দায়িত্ব নিয়েছিল, তাহলে আপনি ভুল করবেন। যদি মনে করেন এটি নিজের রক্ষাক’র্তার প্রতি একটা হরিণের পাল্টা ভালোবাসা প্রকাশের গল্প,

তাহলেও ভুল হবে।
এটা আসলে এমন একটি ছে’লের গল্প যে এক অন্ধ হরিণকে সাহায্য করার মতো সংবেদনশীল। সে প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে ওই হরিণটাকে ঘাস খুঁজে পেতে সাহায্য করত।

ইলিনয়ের শিকাগোতে ১০ বছর বয়সী ছে’লেটি একটা অন্ধ হরিণকে খুঁজে পায়। হরিণটাকে ঘাসওয়ালা পথে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়াটা সে রীতিমতো নিজের অভ্যাসে পরিণত করে ফেলে। হরিণটাকে সে না খেয়ে ম’রতে দিতে চায়নি। এক প্রতিবেশী,

এই দারুণ জুটির ছবি তুলে ইমেজারে পোস্ট করে। মহানুভব এই বালক আর তার অন্ধ হরিণ দেখে সকলেই বিস্ময়ে বিমূঢ়।ইলিনয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগ বিষয়টা জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই হরিণটার দায়িত্ব নেয়। তারা হরিণটাকে সঠিক আশ্রয়ের ব্যবস্থা

করে। ছে’লেটি হরিণটার কোন নাম দেয়নি। আসলে সে হরিণটাকে পোষ মানানোর কোন চেষ্টাই করেনি। সে জন্যেই সে হরিণটাকে নিয়ে যাওয়ায় কোনোরকম দু:খও প্রকাশ করেনি। বরং সে একটু আশ্বস্তই বোধ করেছিল যে হরিণটা এখন নিরাপদ আশ্রয়ে আছে।

মানুষ হিসেবে আম’রা এখন অন্য প্রা’ণীর জন্য নি:স্বার্থভাবে ভালোবাসা অনুভব করা, সহম’র্মিতা বোধ করা ভুলে গেছি। এই ঘটনা সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে, ভালোবাসা মানেই মালিকানা নয়। কারও যত্ন করা মানেই তাকে অধিকার করা নয়। এই ছে’লেটির

কাছে আম’রা শিখতে পারি, কী’ভাবে চারপাশের পৃথিবীর সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে হয়। এই অন্ধ হরিণটার সঙ্গে ছে’লেটি খুব বেশি সময় কা’টাত না। হরিণটির প্রতি নিজের ভালোবাসা দ্বারা সে নিজেকে আচ্ছন্ন হতেও দেয়নি। তবুও আম’রা তার

ভালোবাসা, তার মানবিকতা বুঝতে ভুল করি না। মনুষ্যত্ব শুধু কাউকে ভালোবাসা আর ভালোবাসার মানুষকে জড়িয়ে ধ’রাই নয়। বরং নিজের জগৎটাকে ভাগ করে নেয়া। এবং এই ছে’লেটি তার বয়সের চাইতেও অনেক বেশি প্রজ্ঞা আর পরিপক্বতা দেখিয়েছে এই ঘটনায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close