সারা বাংলাদেশ

ঈদের আগে আবারও বাড়তে পারে ‘লকডাউন’

দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার এবং পাশের দেশ ভারতে বিপর্যকর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চলমান ‘কঠোর’ লকডাউন শেষ হবে ৫ মে মধ্যরাতে। এরপর ঈদ পর্যন্ত মাত্র তিনটি কর্মদিবস পাওয়া যাবে।

তাই প্রশ্ন উঠেছে- এই পরিস্থিতিতে কী লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়বে নাকি বিধিনিষেধ শিথিল করে দেয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। ঈদের আগে তিনটি কর্মদিবস থাকলে কিছুটা শিথিল করে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। তবে

৫ মে’র আগে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। জানা গেছে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৩ বা ১৪ মে দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব

পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আগামী ৫ মে লকডাউনের মেয়াদ শেষে ঈদের আগে কর্মদিবস পাওয়া যাবে ৬ (বৃহস্পতিবার), ৯ (রোববার) ও ১১ মে (মঙ্গলবার)। এর মধ্যে ৭ ও ৮ মে হচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার। এরপর ১০ মে (সোমবার) হচ্ছে শবে কদরের ছুটি। আগামী ১২ মে (বুধবার) থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি। রমজান মাস যদি ২৯

দিনে শেষ হয় তবে ঈদুল ফিতর হবে ১৩ মে। এক্ষেত্রে ১৩ ও ১৪ মে’ও (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) ঈদের ছুটি থাকবে। তবে রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হলে ঈদের ছুটি আরও একদিন বাড়বে, সেক্ষেত্রে ১৫ মে’ও (শনিবার) ছুটি থাকবে। লকডাউনের বর্তমান মেয়াদ শেষে ঈদের আগে তিনটি কর্মদিবস পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে লকডাউনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে- জানতে চাইলে

বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ বিষয়ের ওপর আমাদের চিন্তা-ভাবনা চলছে যে, আমরা কী করব।’ তিনি বলেন, ‘৫ তারিখের পর বিধিনিষেধের কী হবে সেটা এখনো চিন্তা-ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে। আমরা ৫ তারিখের আগেই সিদ্ধান্ত

জানিয়ে দেব।’ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘ঈদের আগে তিনটি কর্মদিবস থাকায় লকডাউন তুলে দেয়ার সম্ভাবনা কম। সেক্ষেত্রে ১৫ মে পর্যন্ত বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়তে পারে। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন সীমিত পরিসরে খুলে দেয়া হতে পারে। তবে যাই হোক সেই সিদ্ধান্ত ৫ মে’র আগেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত হবে।’

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ ও মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে এবার ঈদের নামাজ ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে মসজিদে আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার দেয়া এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত করা যাবে। তবে ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কোনো কার্পেট বিছানো যাবে না। মুসল্লিদের নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে

আসতে হবে। আর নামাজ শুরুর আগে পুরো মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সবাইকে মনে রাখতে হবে জীবন আগে। জীবন বাঁচানোর জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে, যাতে নিজের জীবনটা রক্ষা করা যায়। এসব মাথায় রেখে কিন্তু আমাদের সব ধর্মীয় উৎসব, ধর্মীয় কর্মকাণ্ড- সবকিছু আমাদের করতে হবে।’ দোকানপাট, শপিং মল খোলা রেখে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের যেটা আন-অ্যাভয়েডেবল হলো, শপিং মল অনেক দিন ধরে বন্ধ ছিল। এখন আমরা চাই (মানুষের) চলাফেরার ওপর নিয়ন্ত্রণটা আমাদের করতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশের পরিস্থিতি যদি আমরা পর্যালোচনা করি অথবা আমাদের যে ডেথ রেট আছে, আমাদের সেটা কমাতে হবে, সংক্রমণ কমাতে হবে।’

সে জন্যই চলমান ‘কঠোর’ লকডাউন ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ৫ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close