ইসলাম ধর্ম

ইসলামে বৃ’দ্ধ বাবা-মা’র প্রতি স’ন্তানের কর্তব্য!

রাজধানীসহ সারাদেশে এমন বৃ’দ্ধ মা-বাবাদের দৃশ্য অসংখ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাদের জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে কোনো বেদনা-বিধুর করুণ কাহিনী কিংবা মির্মম কোনো ইতিহাস।
পত্রপত্রিকা কিংবা টেলিভিশন চ্যানেলের

রিপোর্টারদের অনুসন্ধানী চোখে উঠে এসেছে এমন হাজারো ঘ’টনা। তাদের উচ্চবিলাসী স’ন্তানদের কেউ থাকেন ফ্লাট বাসায় কেউ বিদেশে। তবে তাদের সংখ্যা কম হলেও অধিকাংশ বৃ’দ্ধ মা-বাবার স’ন্তানরা দিনমজুর কিংবা রিকশা, বাস, ট্রাক চা’লিয়ে জীবন যাপন করে। তাদের উপার্জনে নিজেদের জীবনের চাকা

চললেও চলে না বাবা-মা’র জীবন। তাইতো তারা ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরে বেড়ান পথে পথে মানুষের দ্বারে দ্বারে। যে বাবা-মা নিজেদের শ’রীরের ঘাম ঝড়িয়ে তাদের লালন পালন করেছেন আজ তারাই এ জগত সংসারের ভিক্ষুক। তাদের দেখাশুনায় স’ন্তানদের অবহেলা। অবহেলিত তারা জীবনের শেষ ব’য়সে। তবে বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অনেকের ভে’তরই আছে।

অনেকে বাবা-মা’কে ভালোবেসে সু’খ পান। মনের গহিনে আ’নন্দ অনুভব করে। মমতাময়ী মায়ের আঁচলই আমাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়। বাবা-মা নিজের জীবনের র’ক্তবিন্দু দিয়ে তিল তিল করে আমাদের বড় করে তুলেছেন। শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মা ১০ মাস ক’ষ্ট সহ্য করে আমাদের গ’র্ভে ধারণ করে চিরঋ’ণী করেছেন, সেই ঋ’ণ শোধ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তো কবি বলেছেন, ‘মায়ের একধার দু’ধের দাম/কাটিয়া গায়ের চাম/পাপস বানাইলেও ঋ’ণ শোধ হবে না/

এমন দরদী ভবে কেউ হবে না আমার মা’। স’ন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের যে ভালোবাসা, তা পৃথিবীর একমাত্র নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। স’ন্তানের জন্য বাবা-মা নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। কিন্তু তি’ক্ত সত্য হলো, কালপরিক্রমায় আমরা হয়ে উঠি অতি নি’র্মম। প্রকাশ পায় বাবা-মায়ের প্রতি চ’রম অবহেলা ও অবজ্ঞা। স্বা’মী-স্ত্রী ও আদরের ছেলে-মে’য়ে নিয়ে গড়ে ওঠে সু’খের সংসার। আর বৃ’দ্ধ বাবা-মায়ের ঠাঁই হয় বৃ’দ্ধাশ্রমে কিংবা ফুটপাতে। পরিবার-পরিজন, ছেলে-মে’য়ে থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক

চ’রম অ’সহায় জীবনযাপন করেন তারা। আমরা একবারও ভাবি না যে আমাদের স’ন্তান আমাদের কাছে যেমন আমরাও আমাদের বাবা-মায়ের কাছে তেমন। আমরা আমাদের স’ন্তানকে যেমন আদর-সোহাগ করি, মায়া-মমতা দিয়ে পরম যতেœ লালন-পালন করি; আমাদের বাবা-মাও আমাদের মায়া-মমতা দিয়ে, আদর-স্নেহ দিয়েই বড় করেছেন। বাবা-মা নিজে না খেয়ে আমাদের খাইয়েছেন। নিজের সু’খ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। আমাদের সু’খের দিকে তাকিয়ে তারা আরামের ঘুম হারাম করেছেন। আমাদের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দেয়ার জন্য

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাথার ঘাম পায়ে ফে’লেছেন। আমাদের লালন-পালনকে ক’ষ্ট মনে করে কোনো শি’শু আশ্রমে আমাদের পাঠিয়ে দেননি। ইসলাম বাবা-মায়ের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তাদের সেবা-যতœ করা, তাদের স’ঙ্গে সদাচরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের মান্য করা ইসলামের দৃষ্টিতে ফরজ। বাবা-মা’কে ক’ষ্ট দেয়া, তাদের স’ঙ্গে দুর্ব্যবহার করা, তাদের কথা অমান্য করা নিঃস’ন্দে’হে অনেক বড় গুনাহ। আল কোরআনে বলা হয়েছে : ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন তিনি ছাড়া

অন্য কারও ইবাদত না করতে ও বাবা-মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে (সূরা বনি ইসরাইল-২৩)। হাদিস শরীফে এসেছে, একবার জনৈক সাহাবি নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে জিহাদে যাওয়ার তীব্র আকাক্সক্ষা প্রকাশ করলেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার বাবা-মা কেউ কি জীবিত আছে? সাহাবি হ্যাঁ সূচক জবাব দিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বাড়িতে গিয়ে তাদের সেবা কর (বুখারি শরীফ, হাদিস নং-২৮৪২)।
বাবা-মা যখন বার্ধক্যে উপনীত হন তখন তাদের প্রতি দায়-দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়, তাদের সেবা-শুশ্রষা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে

ওঠে। বার্ধক্যের কারণে বাবা-মায়ের মেজাজ কিছুটা খিটখিটে ধরনের হয়ে যেতে পারে, সামান্য বি’ষয় নিয়ে তুলকালাম কাÐ ঘটাতে পারেন। তাই তাদের অস্বাভাবিক আচরণকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার নির্দেশ রয়েছে ইসলামে। আল কোরআনে বলা হয়েছে, তাদের একজন বা উভ’য়েই জীবদ্দশায বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের ‘উফ’ বল না। তাদের ধমক দিও না, তাদের স’ঙ্গে সম্মানসূচক কথা বল (সূরা বনি ইসরাইল-২৩)। স’ন্তানের জন্য বাবা-মা উভ’য়েই ক’ষ্ট করেন। তথাপি বাবার তুলনায় মায়ের হক অনেক বেশি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে

জিজ্ঞেস করলেন, কোন ব্যক্তি আমার সর্বাধিক সদাচরণ পাওয়ার অধিকারী? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল তারপর কে তিনি বললেন, তোমার বাবা (মু’সলিম)। সর্বোপরি মনে রাখা প্রয়োজন, কালের বিবর্তনে আমরাও এক সময় বার্ধক্যে উপনীত হবো। আমাদের স’ঙ্গে বৃ’দ্ধাবস্থায় সেই আচরণ করা হবে, যে আচরণ আমরা আমাদের বাবা-মায়ের স’ঙ্গে করব। অন্তত এই দিকটি বিবেচনায় রেখে আমাদের উচিত বাবা-মায়ের স’ঙ্গে সদাচরণ করা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close